মৌলভীবাজারে বাস আটকে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনও বন্ধ রয়েছে।
এতে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ধর্মঘটের বিষয়ে unaware হয়ে সকালে বাস টার্মিনালে আসা অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনও বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি এবং অন্য বাসও টার্মিনালে প্রবেশ করেনি।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বারবার হবিগঞ্জের বাস আটক করে শ্রমিকদের মারধর করছেন। এর প্রতিবাদে ১ অক্টোবর সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের ২৫টি বাস আটক করে শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বাস মালিক নেতাদের ঢাকায় ডাকে। সেখানে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় একটি সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করবে এবং মৌলভীবাজারে আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।
তবে আবু মঈন চৌধুরী সোহেলের দাবি, ২১ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করা হলেও আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর বাসগুলো ফেরত পাওয়া গেলেও কয়েকটি বাস থেকে তেল ও ব্যাটারি চুরি এবং গ্লাস ভাঙচুর অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর ওই রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু মৌলভীবাজারে আবারও হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখা এবং শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম চৌধুরী সুহেল বলেন, মৌলভীবাজারের পরিবহন নেতাদের এ ধরনের আচরণের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে পেশাগত, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু পরিবহন বিরোধের কারণে তাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রতিবাদ হিসেবে ১ অক্টোবর থেকে হবিগঞ্জ জেলার মহাসড়কসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন বন্ধ রাখার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা এতে সাড়া দিয়েছেন।
সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলার সব রুটে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সিলেট বিভাগের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।



