নারায়ণগঞ্জ ।
,

কক্সবাজারে অপহরণের চার ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহরণের চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশ থেকে এক ছাত্রদলের এক নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার রাত ৩টার দিকে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান।

নিহত ২৮ বছর বয়সী ইসফাতুল ইসলাম চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফাহিমুর রহমান।

তার বাড়ি কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায়।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কয়েকটি স্থানেও তাঁরা পাহারা বসান।

এর মধ্যে রাত আড়াইটার দিকে নেতাকর্মীদের কাছে খবর আসে, চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে জিসানকে আটকে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী ওই ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে সেখানে থাকা নিরাপত্তাকর্মী তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে ভবনটিতে তল্লাশি চালায়। তবে এর মধ্যেই খবর আসে, মহাসড়কের পাশে জিসানের মরদেহ পড়ে আছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জিসানের মৃত্যুর সঙ্গে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।”

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে জিসানের আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।”

অহিদুর রহমান বলছেন, “ওই নারীর ভাইয়েরা বিদেশে থাকেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আগে জিসানকে হুমকি দেওয়ার তথ্যও পুলিশ পেয়েছে। তাদের কাউকে দিয়ে পেশাদার খুনি ব্যবহার করে জিসানকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

তবে এসব তথ্য তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ের এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি বস্তায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সেটি মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মাথায় আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন জন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।

তাদের মধ্যে ওই নারীর পরিচিতজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ পুলিশ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিহতের স্বজনরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে আগে থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনের নাম থাকতে পারে। পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হতে পারে।

জিসানকে যে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়েছিল সেটিও শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >