নরসিংদী থেকে মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী হেনা আক্তার (৩৫), সাদিয়া আক্তার (১৫), তানিসা আক্তার (৮), ছেলে আরিফুল ইসলাম ফয়েজ (২০), আবু সুফিয়ান (১৩), ফয়েজের স্ত্রী রহিমা বেগম (১৯), ছেলে মো. রাইয়ান মিয়া (২), হেলাল মিয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন (২২), বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী তানজিনা বেগম (২০), তাদের মেয়ে সাবিনা বেগম (৪), ছেলে ফুয়াদ আহমেদ (২) ও অ্যাম্বুলেন্স চালক রনক হাসান হৃদয় (৩৮)।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের হেলাল মিয়ার মেয়ে নাদিয়া আক্তার (১৭) শুক্রবার রাতে নরসিংদীর গাউছিয়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হন। শনিবার সকালে নরসিংদী থেকে অ্যাম্বুলেন্সে সেই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তার বাবা ও চাচা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে নারী-শিশুসহ দুই পরিবারের ১২ জন যাত্রী ছিলেন।
পথে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় এক পথচারী ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খাদ থেকে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করেন। এরপর আহতদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে করে বাড়ি পাঠানো হয়।
নিহত নাদিয়া আক্তারের চাচা কাজল মিয়া বলেন, আমার দুই ভাই পরিবার নিয়ে নরসিংদীতে থাকেন। এর মধ্যে বড় ভাইয়ের মেয়ে নাদিয়া গতকাল রাতে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। আজ সকালে তার মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসার সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবাই আহত হয়। তবে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। যেভাবে অ্যাম্বুলেন্স খাদে পড়েছিল, বড় দুর্ঘটনার আশংকা ছিল।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. ফজল মিয়া বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের একটি মেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নরসিংদীতে মারা যায়। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স করে তার মরদেহ নিয়ে আজ সকালে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সদরপুর এলাকায় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, একজন পথচারীর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহের সঙ্গে ১২ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকও আহত হয়েছেন। তাদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।



