নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে একটি বিশাল হিমবাহ ধসের ঘটনায় বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২ হাজার ৪২৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে নিখোঁজের সংখ্যা ১ হাজার ৯২৪ জন বলে জানানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অংশে পৃথকভাবে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে দুই দেশের নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় কোনো সম্ভাব্য ওভারল্যাপ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে বহু বসতি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ও চীনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্ত ক্রসিংও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক এলাকা এখনও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক, পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত নেপালে ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ। ধ্বংসাবশেষে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে হ্রদের পানির স্তর কিছুটা কমার তথ্য পাওয়া গেছে, তবুও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিকূল আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা, কাদা ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




