বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রকৌশল বিভাগকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসছে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, অ্যানেক্স ভবন সংস্কারের নামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে না থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একজন সাংবাদিক বাদী হয়ে বরিশাল দুদক কার্যালয়ে অভিযোগটি দেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী নিজেকে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানী অবস্থানে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এর আগেও হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নতুন অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—একাধিক অভিযোগের পরও কীভাবে একই ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?
তবে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা সংস্কার ব্যয় নিয়ে। কারণ অর্থ ব্যয়ের হিসাব থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে সেই মাত্রার সংস্কারকাজের অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সাড়ে ৭ কোটি টাকা গেল কোথায়?
২০২৬ সালের ৯ জুন প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ভবন সংস্কারের নামে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে সেই মাত্রার সংস্কারকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগর ভবন, অ্যানেক্স ভবন, যান্ত্রিক ও পানি শাখা এবং কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই প্রতিবেদনে বিসিসির হিসাব শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশল শাখা যেভাবে ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে, হিসাব শাখা সেটিই বাজেটে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রকৌশল শাখার নথিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির ওই প্রতিবেদনে বলেন, ভবন সংস্কারে কিছু কাজ হয়েছে। তবে কত টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। এমনও হতে পারে, ভবন সংস্কারের নামে দেখানো অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যয় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্য থেকেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যে বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রকৌশলকাজের তদারকি করা, সেই বিভাগের দেখানো কোটি কোটি টাকার ব্যয়ের খাত সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন কেন?
অ্যানেক্স ভবন নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং শুধু অ্যানেক্স ভবনের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা হিসেবে নিরূপণ করা হয়েছিল।
এমন একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—কাজের পরিমাণ কত ছিল, কাজের পরিমাপ কে করেছেন, কোন ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন, কত টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, বিল কে প্রস্তুত করেছেন এবং বিল কে অনুমোদন করেছেন?
এসব নথি প্রকাশ্যে এলে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
আগেই দুদকের নজরে প্রকৌশল বিভাগ
নতুন অভিযোগটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের পাঁচটি বিভাগে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ১৮ কর্মকর্তার কাছে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছিল এবং অন্তত ১২ কর্মকর্তাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
সেসব প্রতিবেদনে প্রকৌশল বিভাগকে অভিযোগপ্রবণ বিভাগগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে দুদক সূত্রের বরাতে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উন্নয়নকাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগের কথাও উঠে আসে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের অডিটরিয়াম নির্মাণে অনিয়মের তদন্তেও তাঁর নাম আসার কথা উল্লেখ করা হয়।
অবশ্য এসব অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
সাম্প্রতিক দুদক অভিযোগপত্রে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে ফাইল অনুমোদন ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়।
এমনকি আগের সময়ের ১ থেকে দেড় কোটি টাকার বকেয়া বিল ছাড় করানোর ক্ষেত্রেও ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই করা দুদকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল বিভাগে বিল, কার্যাদেশ, পরিমাপ, ঠিকাদার নির্বাচন ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
‘ঠিকাদারদের জিম্মি’ করার অভিযোগ
নতুন অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে ঠিকাদারদের জিম্মি করে কমিশন নেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফাইল আটকে রাখা, বিল ছাড়ে বিলম্ব এবং অনুমোদনের নানা ধাপকে ব্যবহার করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকের উচিত গত কয়েক বছরের সব কার্যাদেশ, দরপত্র, ঠিকাদারভিত্তিক বিল, মাপজোক বই, কাজের ছবি, প্রকল্পের প্রাক্কলন এবং পেমেন্ট ভাউচার পর্যালোচনা করা।
বিশেষ করে একই ঠিকাদার বারবার কাজ পেয়েছেন কি না, কাজের মূল্য ও বাস্তব কাজের পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না, কার্যাদেশের পরিমাণ পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল দেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।
অবৈধ সম্পদের অভিযোগও গুরুতর
দুদকে দেওয়া অভিযোগে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বরিশালে ছয়তলা ভবন, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ সত্য কি না, তা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎসের তুলনামূলক তদন্ত। তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, ঋণ, বিনিয়োগ, কোম্পানি বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—অভিযোগ করা আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
কর্মস্থল ছেড়ে ঢাকায় অবস্থানের অভিযোগ
নতুন অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে হুমায়ুন কবির সপ্তাহে দুই দিন পর্যন্ত কর্মস্থল ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করেন।
এই অভিযোগও সহজেই যাচাইযোগ্য। অফিস হাজিরা রেজিস্টার, সরকারি সফর আদেশ, ছুটির নথি, মুভমেন্ট রেজিস্টার, অফিসিয়াল মিটিংয়ের উপস্থিতি এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহারের রেকর্ড পরীক্ষা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ সত্য হলে সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবেও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
বহিষ্কার থেকে শীর্ষ প্রকৌশলী: পদোন্নতি ঘিরেও প্রশ্ন
হুমায়ুন কবিরের চাকরিজীবন নিয়েও অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২০ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরে তাঁকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে একই বিষয়ে আরেকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ঘিরে ‘অপপ্রচার’ ও ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার’ অভিযোগও প্রকাশিত হয়। সেখানে হুমায়ুন কবির নিজেই তাঁর বিরুদ্ধে চলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং নিয়মের বাইরে কোনো কাজ না করার কথা বলেন।
অর্থাৎ তাঁকে ঘিরে গণমাধ্যমে দুই ধরনের বয়ানই রয়েছে। একদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার হিসেবে দাবি করার বক্তব্য।
এই দ্বন্দ্বের সমাধান রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, নথিপত্র ও স্বাধীন তদন্তেই।
সরকারি ওয়েবসাইটে এখনো প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তাঁর নাম
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইটের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মো. হুমায়ুন কবিরকে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ অভিযোগ যতই থাকুক, তিনি এখনো বিসিসির প্রকৌশল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তাঁর অধীনে পরিচালিত প্রকল্প, ঠিকাদারি কাজ এবং আর্থিক লেনদেনের নথি তদন্তের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন এখন দুদকের সামনে
একজন সাংবাদিকের দায়ের করা নতুন অভিযোগ, এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২০২৫ সালে বিসিসির প্রকৌশল বিভাগ নিয়ে দুদকের নজরদারির খবর একসঙ্গে রাখলে বিষয়টি হালকা কোনো অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন হলো—
- সাড়ে ৭ কোটি টাকা সংস্কার ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব কোথায়?
- যেসব ভবনে সংস্কারের কাজ হয়নি বা সামান্য কাজ হয়েছে, সেখানে এত টাকা ব্যয়ের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো?
- কারা কার্যাদেশ পেয়েছেন?
- কাজের পরিমাপ কে করেছেন?
- কোন কর্মকর্তারা বিল অনুমোদন করেছেন?
- ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না?
- অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পদের সঙ্গে তাঁর বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য আছে কি না?
- চাকরি থেকে বহিষ্কার ও পরবর্তীতে পুনর্বহাল এবং পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছিল কি না?
- আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলে তদন্ত করে অভিযোগকারী ও অপপ্রচারের উৎসও কি চিহ্নিত করা হবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিতর্ক থামার কারণ নেই।
তদন্ত হোক, প্রকাশ করা হোক সব নথি
বরিশাল নগরবাসীর করের টাকা, সরকারি বরাদ্দ এবং নাগরিক সেবার অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
তাই দুদকের কাছে দাবি, শুধু অভিযোগ গ্রহণ করে ফাইলবন্দি না রেখে অ্যানেক্স ভবনসহ সব সংস্কারকাজের প্রকল্প নথি, কার্যাদেশ, টেন্ডার, মাপজোক বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হোক এবং তদন্ত শেষে অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা স্পষ্টভাবে জানানো হোক।
কারণ এখানে প্রশ্ন শুধু হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নয়। প্রশ্ন হলো—বরিশাল সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকার জনঅর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং সেই অর্থের পাহারাদারদের জবাবদিহি কোথায়?
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকেও দায়মুক্ত করার স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
জনগণের টাকার হিসাব জনগণকে দিতেই হবে।




