নারায়ণগঞ্জ ।
,

ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে হত্যা

বিএনপি নেতার মাকে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছবি: কালবেলা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিঠুর বৃদ্ধা মাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা লুট করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত জালেমন (৬৫) উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামের মৃত আইজউদ্দিনের স্ত্রী। তিনি শোলাকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জালেমন নিজ ঘরে একাই ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে লোহাজাতীয় কোনো বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া নাতনি মুসলিমা জান্নাতি বলেন, বাড়িতে দাদি, বাবা-মা ও চাচি থাকতেন। আমরা পড়াশোনা ও চাকরির কারণে এলাকার বাইরে থাকি। চাচিও বাবার বাড়িতে এবং বাবা-মা অন্যত্র থাকায় দাদি একা ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে। দাদির গলার মালা, কানের দুলসহ কিছু স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা নেই। আমার দাদির কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না। আমরা মনে করছি, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাতুল মুন্সি জানান, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা জালেমনের ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

অরনখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >