ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ না মিললে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা পেতে নাগরিকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ভোগান্তির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হচ্ছেন। ইসিতে এসে কেউ কেউ নতুন করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। যাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোনোভাবেই আর কাজ করছে না, তাদের ইসি থেকে প্রত্যয়নপত্র বা এনওসি দেওয়া হচ্ছে, যা দেখিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারেন।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রায় ২ হাজার ৮০০ নাগরিককে এই এনওসি দিয়েছে কমিশন। চলতি বছর ছয় মাসে গত বছরের প্রায় সমপরিমাণ এনওসি দেওয়া হয়েছে। তাই এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা পেতে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের পাশাপাশি চোখের আইরিশও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা নাগরিকদের এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে চাই। ফিঙ্গারপ্রিন্টের পাশাপাশির চোখের আইরিশও যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে অ্যাক্সেস দেব। প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেখবে, সেটি না হলে চোখের আইরিশ স্ক্যান করবে।’
যারা ভোটার হয়েছেন; কিন্তু এখনো চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি দেননি। তারা যে কোনো সময় এসে তা দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নাগরিকরা দেশে মোবাইল ফোনের সিম কেনা, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও বিদেশে যাতায়াত করতে পারেন। বয়স বৃদ্ধি, রোগাক্রান্ত হওয়া ও হাত দিয়ে ভারী কাজ করেন—এমন পেশার লোকেরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলার সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন কেউ না কেউ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সমস্যা নিয়ে ইসিতে আসছেন। এদের বেশিরভাগ বয়স্ক। তবে এ সংকটে পড়া তরুণের সংখ্যাও কম নয়।
গত বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় প্রত্যয়নপত্র নিতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে। যার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর হবে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের সিম কিনতে গেলে দোকানি বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না। প্রথমে ইসিতে এসে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেশিন তা নেয়নি। তাই প্রত্যয়নপত্র নিতে এসেছি।
ইসির দুর্বলতার কথাও জানান ইসির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট সার্ভারে আপলোড হলো কি না, নাগরিকদের সেটি কমিশন থেকে জানানো হয় না। জানতে হলে আবার ওই নাগরিককে ইসিতে আসতে হয়। এ ছাড়া অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন হয়ে মৃতের তালিকায় চলে যাচ্ছে। কোনো কাজ করতে না গেলে তিনি জানতে পারছে না যে, তার নাম মৃতের তালিকায় চলে গেছে। কারও নাম মৃতের তালিকায় গেলে অবশ্যই তার পরিবারের কারও না কারও নম্বরে এ বিষয়ে মেসেজ পাঠানো উচিত।’
এ কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে ইসির সার্ভারে কোনো নাগরিকের মোবাইল নম্বর ট্যাগ করা নেই। যার কারণে তাদের মেসেজ দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে বিটিআরসি, এনবিআর ও মোবাইল কোম্পানিগুলোকে নিয়ে ইসি সভা করতে পারে। অনেকেই দোকান থেকে নতুন ভোটারের আবেদন ও এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। সেই সময় আবেদনে দোকানদারের নম্বর ব্যবহার করে থাকেন অনেকে। এতেও সমস্যা হয়। তাই নতুন ভোটার হওয়ার সময় নিজ বা পরিবারের মোবাইল নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এতে নাগরিককে যে কোনো বিষয়ে আপডেট তথ্য পাঠানো যাবে। আর যারা এরই মধ্যে ভোটার হয়েছেন—মোবাইল কোম্পানির মাধ্যমে তাদের কাছে মেসেজ দিয়ে মোবাইল নম্বর যুক্ত করার জন্য বলা যেতে পারে। এতে নাগরিকের ভোগান্তি কমবে।




