আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে বিচ্ছিন্নভাবে সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি কমে ভ্যাপসা গরমের দাপট থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ষা মৌসুমের আগাম প্রভাবে কারণে ২৮ মে ঈদের দিন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে জুনের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব থাকবে।
শুক্রবার আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি এরপরও আবহাওয়ার পরিস্থিতির যে সিমটম দেখা যাচ্ছে; তাতে ঈদের দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রংপুর ময়মনসিংহ সিলেট এবং রাজশাহী বিভাগের আংশিক এলাকায় মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময় রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও হতে পারে; সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তিনি আরও বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ ভ্যাপসা গরমের প্রভাব থেকে যাবে। এরপর বর্ষার প্রভাবে গরম কমতে পারে।
এদিকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। এতে চলমান ভ্যাপসা গরমে কমেনি; বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে গরম আরো তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগের কয়েকদিনের তুলনায় শুক্রবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম ছিল।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য বৃষ্টি। রাজধানী আকাশে মেঘ থাকলেও এই মেঘ ভ্যাপসা গরম বাড়াতে পারে। এই মেঘ নিম্নস্তরে আছে। এখান থেকে সাধারণত বৃষ্টি হয় না। রাজধানীতে তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এদিকে, মে মাসের প্রথম দিনের মতো গত বুধবার তাপপ্রবাহ ছিল রাজধানীতে। ওই দিন এ রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ২ দশমিক ২ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিনের তুলনায় ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা কমলেও ভ্যাপসা গরম কমেনি। বরং আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গরম আরও বেড়েছে।
এর কারণ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, বাতাসে আর্দ্রতা প্রচুর। এ থেকে গরমের অনুভূতি বাড়ছে।
আর বৃহস্পতিবার দেশের খুলনা বিভাগে খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা চার জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও শুক্রবার বয়ে গেছে ১৩ জেলার ওপর দিয়ে। খুলনা বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও রাজশাহী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনি, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবন ও পটুয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজও ওই সব এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহী, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও বাগেরহাটের মোংলায় ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস; যা আগেরদিন ছিল খুলনার কয়রায়, ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়তির দিকে থাকায় সহসাই ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে চলতি মাসের শেষের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে; ওই সময় গরম কিছুটা কম অনুভুত হলেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; রাতে আরও কিছু বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া শুক্রবার রংপুর ময়মনসিংহ রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদদের মতে, ঈদের দিন সকালের দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির বেগ বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের প্রধান প্রধান ঈদগাহ ও খোলা ময়দানে ঈদের জামাত আয়োজন বিঘ্নিত হতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে খোলা মাঠের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ মসজিদগুলোকে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বৃষ্টি নিরোধক বিশেষ শামিয়ানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ পশু কোরবানির ক্ষেত্রে বৃষ্টি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে যথাসম্ভব ছাউনিযুক্ত স্থানে বা নিরাপদ আশ্রয়ে পশু জবাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, বৃষ্টির পানির সাথে কোরবানির রক্ত ও বর্জ্য মিশে যাতে পরিবেশ দূষণ বা জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সেদিকে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।








