নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু !

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ গুলিতে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দাবি, অনিচ্ছাকৃতভাবে আচমকা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে গুলি বের হয়ে যায়। আর সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশি পাচারকারীর।

রোববার (৩০ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কারো দিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত ওই অস্ত্র থেকে নিক্ষেপিত গুলি গিয়ে লাগে বাংলাদেশি চোরাকারবারির শরীরে। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিএসএফ জানিয়েছে, শনিবার সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জের মাটিয়ারী সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের তথ্য মতে, আনুমানিক শনিবা বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে বাহিনীর ৩২ ব্যাটালিয়নের এক সদস্য সীমান্ত বেড়ার কাছে ৬-৭ জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে প্লাস্টিকের বান্ডিল বহন করতে দেখেন। তারা কাঁটাতার কেটে বাংলাদেশের দিকে বান্ডিলগুলো পাঠাচ্ছিলেন। সেসব সংগ্রহ করছিলেন বাংলাদেশের চোরাকারবারীরা।

বিএসএফের দাবি, বিএসএফের এক সদস্য তাদের থামতে এবং সতর্ক করতে শূন্যে এক রাউন্ড গুলি চালায়। কিন্তু তাতেও চোরাকারবারিরা ভয় না পেয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যান। বিএসএফের ওই সদস্য তাদের দিকে এগিয়ে গেলে চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। এ সময় বাহিনীর ওই সদস্যকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন চোরাকারবারিরা।

এরপর শুরু হয় ধ্বস্তাধস্তি। তখন বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে যায় এবং অস্ত্র থেকে নিক্ষেপিত গুলি গিয়ে লাগে এক চোরাকারবারির শরীরে। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই চোরাকারবারি।

বিএসেএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজনকে পড়ে যেতে দেখে অন্য চোরাকারবারিরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে গুলিবিদ্ধ চোরাকারবারিকে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পড়ে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ এবং মৃতদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার সেই লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে, সেখানেই চলে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >