মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে যমুনা নদীভাঙন। উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামে যমুনা নদীগর্ভে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। নদীপাড়ের নদীকবলিত মানুষগুলোর এখন রাত কাটছে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে। শেষ সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন নদীভাঙনের কবলে পড়া অনেক পরিবার।
গত কয়েকদিনের আকস্মিক ভাঙনে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভিটেমাটি হারিয়ে অশ্রু সজল চোখে ক্ষতিগ্রস্ত মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন বলেন, নদীভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের মতো আর কেউ যেন এভাবে গৃহহীন না হয়। এছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ২০০ পরিবার ও শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
নদীপাড়ের বসবাসকারী স্থানীয় আহাম্মদ আলী ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ না করা হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়ার প্রায় ২০০টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এ বিষয়ে জিয়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সার্বিক বিষয় অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন জানান, ইতোমধ্যে আমার ইউনিয়নে প্রায় তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । এছাড়াও বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, মন্দির নদীগর্ভে বিলীনের পথে রয়েছে এবং যোদকাশি মুন্সীকান্দি ঘোষপাড়ার বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ না করা হলে কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়াও উপজেলার বাচামারা এবং চরকাটারি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, কয়েকটি ইউনিয়নে যমুনার ভাঙন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে আমরা এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিব।







