নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর মেঘনায় ভাসল যুবকের মরদেহ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা উমায়ের হাসান (২৫)-এর বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

পরিবারটির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে—যার পেছনে রয়েছে তারই দুই বন্ধু।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উমায়েরকে মোবাইল ফোনে কল করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় সোহাগ ও বায়েজিদ নামে তার দুই বন্ধু। এরপর থেকেই উমায়ের নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে নিহতের মা আনার কলি সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করেন।গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গজারিয়া উপজেলার কাজীপুরা সংলগ্ন মেঘনা নদীর অংশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আড়াইটার দিকে মরদেহটি উমায়ের হাসানের বলে শনাক্ত করা হয়।নিহতের মা আনার কলি অভিযোগ করে বলেন, উমায়েরকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সোহাগ ও বায়েজিদ পলাতক। তাদের মোবাইলও বন্ধ। আমার ছেলেকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময় উমায়েরের সঙ্গে ওই দুই বন্ধুরই সর্বশেষ যোগাযোগ ছিল, যা এই ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”নিখোঁজ হওয়ার সময়, শেষ ফোন কল, সন্দেহভাজনদের পলাতক থাকা এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয় বলেই ধারণা করছেন স্বজনরা। এটি হত্যাকাণ্ড বলে বিচারের দাবী করছে স্বজনরা।

এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও প্রযুক্তিগত তদন্ত (কল ডিটেইলস, লোকেশন ট্র্যাকিং) এই মৃত্যুর পেছনের সত্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >