সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে মো. সজীব (৩২) হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামি নূর হোসেন ওরফে মাইকেল (৪০) এবং তার ছেলে মো. আপন (২০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ধনকুন্ডা ক্যানেলপাড়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে মো. সজীবের ওপর অজ্ঞাতনামা আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা আক্তার শিরিন বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান ও আইসিটি শাখার একটি দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হকের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ আগস্ট রাত ৭টা ৪০ মিনিটে এসআই মাসুম বিল্লাহ ও এসআই মো. বেলাল উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন নন্দলালপুর এলাকা থেকে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি নূর হোসেন ওরফে মাইকেল এবং ২ নম্বর আসামি তার ছেলে মো. আপনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে ৩১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন উত্তর মদিনাবাগ খালপাড় রাস্তার মাথায় খালের পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




