নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মারামারি থামাতে গিয়ে নারীসহ তিনজন ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সিফাত (২১) নামে এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি পাগলাবাড়ি ক্যানেলপাড় এলাকায় হুসাইনিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মো. সিফাত (২১), মো. রাজু (২৬) ও এ্যানি আক্তার (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর সিফাতকে প্রথমে স্থানীয় সুগন্ধা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। অপর দুই আহত রাজু ও এ্যানি আক্তারকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিফাতের মায়ের পিঠার দোকানের সামনে মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে অপর একটি গ্রুপের সদস্যদের সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় সিফাতসহ কয়েকজন সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এর প্রায় ৩০ মিনিট পর শফিকুল ইসলাম তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস পারী, বোনজামাই সোহেলসহ ৫-৬ জনকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সিফাত, রাজু ও এ্যানি আক্তারকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। এ সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেন বলেও জানা গেছে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়ালীউল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “ঘটনার খবর শুনে আমাদের এসআই ওয়ালীউল্লাহকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



