নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণ ও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মাদানীনগর পুল চত্বরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।
এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনগণ মাদক নির্মূলে পুলিশের আরও তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।” তিনি বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়া বাসায় ওঠানোর আগে তাদের সম্পর্কে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের তথ্য পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের নাম বা তথ্য দেবেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
সভা চলাকালীন উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাদক কারবারিদের তালিকা ও মাদক স্পটের নাম পুলিশ সুপারের কাছে তুলে দেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা এবং তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আইনের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।
সামাজিক অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় ও সমন্বয় বাড়লে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।



