নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. মতিউর রহমান জনি ওরফে ‘ব্লাক জনি’ (৩৯) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে রামদা, ছোরা, দা ও জিআই পাইপসহ মোট ১৬টি দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নির্দেশনায় ডিবি ‘খ-জোন’-এর এসআই (নিঃ) এসএম আব্দুল আজিজ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ৫৫ মিনিটে বন্দর থানাধীন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ঘাড়মোড়া কাজিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন— মো. মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্লাক জনি (৩৯), পিতা মো. আমান উল্লাহ ওরফে আমু মিয়া, মাতা হেনা বেগম, সাং সুচিয়ারবন্দ, থানা বন্দর, জেলা নারায়ণগঞ্জ এবং মো. রিফাত হাসান (২৬), পিতা মো. খোরশেদ আলম, মাতা মোছা. রিনা বেগম, সাং জিওধারা চৌরাস্তা, থানা বন্দর, জেলা নারায়ণগঞ্জ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রগুলো নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব অস্ত্র চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ছিনতাই, মাদকদ্রব্যের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী ঘটনাস্থলের একটি হাঁসের খামারের দক্ষিণ পাশে মাটির নিচে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রক্ষিত অবস্থায় এসব দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে—
১. লোহার তৈরি ৫টি রামদা;
২. এসএস-এর বাটযুক্ত লোহার তৈরি ২টি রামদা;
৩. লোহার তৈরি বাটযুক্ত ২টি রামদা;
৪. লোহার তৈরি ২টি ছোরা;
৫. লোহার তৈরি ২টি দা;
৬. ৩টি জিআই পাইপ।
সব মিলিয়ে ১৬টি দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বন্দর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মো. মতিউর রহমান জনি ওরফে ‘ব্লাক জনির’ বিরুদ্ধে বন্দর ও সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১টি, অস্ত্র আইনে ১টি এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আরও ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




