নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যা মামলার ১০ দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক (প্রশাসন) মিন্টু কুমার।
পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সাদিয়ার সঙ্গে ইব্রাহিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাদিয়া জানতে পারেন, ইব্রাহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে ইব্রাহিমকে তালাক দেন সাদিয়া।
এরপর পরিচয় গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করা আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানের সঙ্গে সাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
তদন্তে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাজ্জাক রাজি হননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরে রেখে নিহতের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার পর ১৬ জুলাই মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। প্রথমে এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে শনাক্ত করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তির আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যা তাহিয়া তদন্তকারীদের জানায়, ওই ব্যক্তি ‘আরিয়ান চাচ্চু’ নামে তাঁদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২১ জুলাই কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যার সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




