নারায়ণগঞ্জ শহরে আগামী ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদে মাঠে নামছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যাবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।
সাখাওয়াত বলেন, এসপি সাহেব ও র্যাব-১১ এর সাথে সংক্ষিপ্ত মিটিং করেছি। আমরা সবার প্রথমে এই বিবি রোডকে হকার মুক্ত করবো। এ রোডসহ নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে আছে, যা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং নগরীর পরিবেশ দূষিত করছে। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান ইতিমধ্যে হকারদের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হকাররা যাতে শহরের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসা করতে পারেন। তবে, মূল সড়কগুলোর কোনো অংশে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হকারদের জন্য শহরের ফুটপাতের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হবে। হকাররা ফুটপাতে ৩ ফুটের মধ্যে বসে ব্যবসা করতে পারবেন। বড় লকার বক্স নিয়ে বসতে পারবেন না। এর পরিবর্তে তারা ছোট টুকরি নিয়ে বসতে পারবেন, যাতে ফুটপাতে চলাচলকারী পথচারীদের জন্য কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুটপাতে হকারদের ব্যবসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হবে। কোনো হকার সেই সীমানা অতিক্রম করতে পারবেন না। এমনকি যারা অতিরিক্ত জায়গা দখল করে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও হকারদের পুনর্বাসনের জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হকারদের সঠিক ও নিরাপদ কাজের সুযোগ দেওয়া হবে যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারেন এবং তাদের জীবনমান উন্নত হয়। তবে এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের ভোটাররাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক।
এদিকে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এই বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যাবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে একাধিকবার মতবিনিময় করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। প্রতিটি পদক্ষেপে সকল পক্ষের স্বার্থের কথা চিন্তা করব।
এই কার্যক্রমের আওতায় হকারদের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি, নগরীর পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ও নিয়মাবলী তৈরি করা, শহরের রাস্তায় অবৈধ পার্কিং অপসারণ, সড়ক অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি।
নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তারা মনে করছেন এটি শহরের পরিবেশ উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। চাষাঢ়া, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ এবং বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে হকারদের দখল করা ফুটপাতে ।
সাধারণ পথচারীরা জানান, ফুটপাতে চলতে অনেক সময় বাধা আসত, এখন যদি এই উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর হয় তবে শহরের পরিবেশ অনেকটা পরিবর্তিত হবে। অপরদিকে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ফুটপাত মুক্ত হলে, ব্যবসা চালানোর জন্য আমাদেরও আরও ভালো পরিবেশ পাওয়া যাবে। তবে হকারদের পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা আবারো অবৈধ ব্যবসায় না জড়ায়।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে নারায়ণগঞ্জকে একটি সুশৃঙ্খল নগরীতে রূপান্তরিত করা। শহরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা যেকোনো ধরনের অবৈধ দখল দূর করতে বদ্ধপরিকর। তবে, হকারদের পুনর্বাসন এবং তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, এ উদ্যোগের ফলে শুধু পরিবেশ নয়, শহরের আইনশৃঙ্খলাও উন্নত হবে। আমি আশা করি জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো।




