নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পাগলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয়দের অভিযোগে। কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাজাহানের ছেলে সজীবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের রাজত্ব।
প্রাপ্ত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আলম দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি গত ২৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা লুটপাট, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় আসামিরা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে ভুক্তভোগীসহ তার পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সজীব দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের সরবরাহ ও বিক্রির মাধ্যমে সে এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৫-৬ মাস আগে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সজীব ও তার বাবা শারজাহান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারমুখী আচরণে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সজীব নির্বিঘ্নে তার মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজনের কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন নীরব।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সজীবের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে সে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নিশ্চিন্তপুরসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এজাহারে উঠে আসা তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ মিলিয়ে স্পষ্ট—নিশ্চিন্তপুরে একটি প্রভাবশালী চক্র আইনের তোয়াক্কা না করেই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।




