নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতি এখন রীতিমতো বিস্ফোরণোন্মুখ। স্বতন্ত্র প্রার্থী সেজে নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া বিতর্কিত নেতা মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহআলমের বিরুদ্ধে এবার আর রাখঢাক নয়—সরাসরি “শয়তানতন্ত্র”, “বিদ্রোহ” ও “দল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র”-এর অভিযোগ তুলেছে ফতুল্লা থানা বিএনপি।
আসনটিতে নির্বাচনী রাজনীতিতে আবারো নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দেওয়ায় বহুদিনের বিতর্কিত নেতা মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও বসন্তের কোকিল খ্যাত মোহাম্মদ শাহআলমকে প্রকাশ্যে “শয়তানতন্ত্রে লিপ্ত” আখ্যা দিয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থিতার আড়ালে এ দুই নেতা আসলে বিএনপির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক একযোগে এই দুই নেতাকে আক্রমণ করে বলেন—স্বতন্ত্রের মুখোশে তারা আসলে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র মনোনয়ন দাখিল করায় আগেই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন গিয়াসউদ্দিন ও শাহআলম। কিন্তু তারপরও নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে অনেকেই বলছেন তাদের এমন সিদ্ধান্ত আসলে দলীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি বজ্রাঘাত ও আদর্শবিরোধী কাজ।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারী ভুইয়া আগুনঝরা বক্তব্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই দুই শয়তানতন্ত্রের একজন প্রকাশ্যে বিএনপির নেতাকর্মী ও দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আরেকজন আবার গর্ব করে বলেছে—নেতাকর্মীরা জেলে যাবে এবং হামলা-মামলার শিকার হবে বলে সে নাকি ১৭ বছর তাদের কোনো আন্দোলনে নামতে দেয়নি! সেদিন থেকেই তো আপনাদের বহিষ্কার অবধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্রের নামে আপনারা আসলে শয়তানতন্ত্রেই মজে আছেন। নিজেদের ঘর আগে ঠিক করেন। আপনাদের তথাকথিত সিপাহসালাররা গোপনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যাদের ৫-৬ বছর খোঁজ নেননি, এখন দিনে ৪-৫ বার ফোন দিয়ে অনুষ্ঠানে ডাকছেন। কিন্তু তারা বুঝে গেছে আপনাদের শয়তানি—তাই ক্যামেরার পেছন দিয়ে চুপিচুপি অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দুই দিন পর আপনাদের পাশে আর কাউকেই খুঁজে পাবেন না।
কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে – ২০ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে সসম্মানে ঘরে বসে থাকুন। নইলে জামানত তো হারাবেনই, নিজেদের ভোটটাও পাবেন না।
অন্যদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিয়াদ চৌধুরী আরও কঠোর ভাষায় বলেন, কতিপয় ব্যক্তি শয়তানতন্ত্র নিয়ে শয়তান হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন খেজুর গাছের বিপক্ষে। যারা শয়তানের তন্ত্র ও মন্ত্র নিয়ে নির্বাচনের চিন্তা করছেন, তারা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তথা পু্রো বিএনপির আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
রিয়াদ চৌধুরী দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা দেন, এই শয়তানতন্ত্রের সমস্ত কুমন্ত্রণা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আমরা খেজুর গাছকে বিজয়ী করবো। বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেশনায়ক তারেক রহমানকে এই আসনের বিজয় উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াসউদ্দিন–শাহআলমের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং বিএনপির ভেতরে শৃঙ্খলা বনাম বিদ্রোহের স্পষ্ট লড়াইকে সামনে এনে দিয়েছে। ফতুল্লা থানা বিএনপির এই আগ্রাসী অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবার আর কোনো আপস নয়, হবে সরাসরি রাজনৈতিক যুদ্ধ।
সব মিলিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস-শাহআলমকে ঘিরে বিএনপির ভেতরের এই তীব্র আক্রমণাত্মক অবস্থান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও সংঘাতপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়—এই ‘শয়তানতন্ত্র’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কেমন প্রভাব ফেলে।




