নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গৃহ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত স্বর্ণ, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বর্ণ গলানোর যন্ত্রপাতি ও একটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে ফতুল্লা থানাধীন ভুঁইগড় তালতলা সামছুল হক খান মসজিদ এলাকায় মো. হান্নান হোসাইনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তারা ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় ৮ আগস্ট মামলা নং-৩২, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতদের শনাক্ত করে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ আভিযানিক দল ঢাকার তুরাগ, ডিএমপির বিভিন্ন থানা এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কাঁচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার বিহারীপুর এলাকার ইব্রাহীম ওরফে ইসমাইল খানের ছেলে শহিদুল খান (৪৬) এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকার কামাল হোসেন সাগরের ছেলে কাউসার মল্লিক ওরফে হৃদয় (২৭)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, লুন্ঠিত ১ ভরি ২ রতি স্বর্ণ, একটি ব্যাংক হিসাব এবং স্বর্ণ গলানোর যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, ফতুল্লার ওই ডাকাতির ঘটনায় মোট ১৪ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি এবং খুনসহ ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।
পলাতক ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




