নারায়ণগঞ্জে আলোচিত শুভ হত্যা মামলার বাদী মাকসুদা বেগমের (৩৯) আকস্মিক মৃত্যুতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে যিনি শুরু থেকেই সরব ছিলেন, তার মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মামলার বাদীর মৃত্যু হলেও বিচার কাজ ও তদন্তে কোন বাঁধা সৃষ্টি হবে না। কেউ না থাকলে রাষ্ট্রপক্ষই মামলাটির বাদী হবে।
রোববার (৩ মে) একথা জানান নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
তিনি জানান, মামলার বাদীর মৃত্যু হলে মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হবে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এক্ষেত্রে কোন বাঁধা সৃষ্টি হবে না। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, এঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান চলছে।
এদিকে মাকসুদা বেগমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকায় অটোযোগে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন মাকসুদা বেগম। অটোর সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী সোহেল। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি এবং ইতোমধ্যে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মাকসুদা বেগমই প্রথমে ছেলে শুভ অপহরণের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শুভর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানার নাম উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এক মাস পেরিয়ে গেলেও শুভ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে সহানুভূতি থাকলেও ধীরে ধীরে সবাই নীরব হয়ে গেছে। বিশেষ করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া এবং প্রশাসনের গড়িমসিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
ঘটনার পেছনের সূত্রপাত ২৫ মার্চ। ওইদিন শুভর নেতৃত্বে একটি দল চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় একটি গ্যারেজ দখলকে কেন্দ্র করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জের ধরে ২৯ মার্চ তার ওপর পাল্টা হামলা চালানো হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহৃত হন ২১ বছর বয়সী শুভ, যিনি পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা।
পরে ২ এপ্রিল অপহরণ মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় শাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অপহরণের পরদিন, অর্থাৎ ৩০ মার্চ সকালে কালাদী এলাকা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়। পরে ৫ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা ছবির মাধ্যমে সেটি শুভর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এই ঘটনার ঠিক এক মাসের মাথায় মামলার বাদী মাকসুদা বেগমের মৃত্যু নতুন করে সন্দেহ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।



