নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের মোবাইল ফোন আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা তার এই অপকর্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই। বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসআই ফারুক কোনো আসামিকে গ্রেফতার করার পর প্রথমেই তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি জব্দ করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আসামি জামিনে মুক্তি পেলেও কিংবা আদালতে পাঠানোর সময় ওই মোবাইল ফোন আর ফেরত দেওয়া হয় না। ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা মোবাইল চাইলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন অথবা সাফ জানিয়ে দেন যে, মোবাইলটি তার কাছে নেই।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, মোবাইল ফোনের দাবি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে এসআই ফারুক তাদের উল্টো মামলার ভয় দেখান এবং বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার ভাইয়ের মোবাইলের জন্য থানায় কয়েকবার গিয়েছি। কিন্তু দারোগা সাহেব শুধু বলেন ‘তদন্তের কাজে লাগবে’। শেষে একদিন ধমক দিয়ে বের করে দিলেন।”
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের হাওয়া লাগলেও বন্দর থানার এই কর্মকর্তার আচরণে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের অনেক সদস্য নিজেদের শুধরে নিলেও ফারুকের মতো কিছু কর্মকর্তার কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হওয়ার বদলে এমন অপকর্ম পুলিশের প্রতি জনমনে ঘৃণা ও অবিশ্বাস তৈরি করছে।
থানা পর্যায়ে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তার এমন নৈতিক স্খলন ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। অনতিবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।






