নারায়ণগঞ্জ ।
,

বন্দরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুসহ মূল আসামি গ্রেফতার

বন্দর থানা পুলিশের অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকুসহ হত্যা মামলার মূল আসামি শিহাব হাবীব (২২)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মাদক গ্রহণ এবং ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে বন্দরের শুভকরদী এলাকার শিহাব হাবীব (২২) ও তার অজ্ঞাতনামা এক সহযোগী আমির হোসেন ডালিম (৩৬)-এর ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিহাব হাবীব ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে ডালিমের পেটের বাম পাশে আঘাত করেন।

ডালিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিহাব হাবীব ও তার সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আমির হোসেন ডালিমকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ আগস্ট ভোর ৫টা ২১ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ রমজান হোসেন (৪৮) বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী-এর দিকনির্দেশনায় এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন-এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুলিশ আসামি শিহাব হাবীবকে গ্রেফতারের অভিযান শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৭ আগস্ট রাত ৮টা ৩০ মিনিটে বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ ঘাট এলাকা থেকে শিহাব হাবীবকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরে গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে একই রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বন্দর থানাধীন শুভকরদী এলাকার জনৈক মোঃ মেহেরাজের চায়ের দোকানের পেছনে শাফি হাজীর ফাঁকা জমি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি স্টিলের রক্তমাখা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপর সহযোগীকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >