নারায়ণগঞ্জ ।
,

আড়াইহাজারে শ্বশুরবাড়িতে আগুন, দগ্ধ স্ত্রী-সন্তান ও শ্বাশুড়ি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এক নারী, তার মেয়ে ও শিশুনাতনি দগ্ধ হয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর জামাতা আলমগীরের বিরুদ্ধে ঘরের ছিটকিনি বাইরে থেকে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আড়াইহাজার পৌরসভার দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—মোমেলা (৫৫), তার মেয়ে তানিয়া আক্তার বৃষ্টি এবং নাতনি হাফসা।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকেই ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আলমগীর আড়াইহাজারের ঝাউগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং দগ্ধ তানিয়া আক্তার বৃষ্টির স্বামী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মোমেলা, তার মেয়ে তানিয়া ও নাতনি হাফসা বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ ঘরে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আগুনে মোমেলা গুরুতর দগ্ধ হন। তার মেয়ে তানিয়ার হাত এবং শিশুনাতনি হাফসার নাক দগ্ধ হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকেই ঢাকার বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাকিম জানান, তানিয়া আক্তার বৃষ্টির সঙ্গে তার স্বামী আলমগীরের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে আলমগীর ঘরের ছিটকিনি বাইরে থেকে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়েছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এতে অভিযুক্ত আলমগীরের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আলমগীরকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগুন লাগার কারণ, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সময় অভিযুক্তের অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >