নারায়ণগঞ্জ ।
,

সুবিধাবাদীদের স্বার্থের বলি হচ্ছেন ব্যবসায়ী মোকাররম সর্দার

কথায় আছে, নিজের আঁটি কালা করতে অন্যের ক্ষেত পোড়ানো; গ্রাম বাংলায় এই প্রবাদ বাক্যের বেশ প্রচলন রয়েছে। অর্থাৎ স্বার্থ হাসিল বা বিশেষ সুবিধা আদায়ে অন্যের পেছনে লাগা কিংবা তার ক্ষতির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এই প্রবাদ বাক্যের মতই যেন সুবিধাবাদীদের স্বার্থের বলিতে পরিণত হচ্ছেন আলীগঞ্জ ঘাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী মোকাররম সর্দার। যাকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির মিশনে রয়েছে একাধিক মহল।

সম্প্রতি ব্যবসায়ী মোকাররম সর্দারকে নিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে এমন অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তার পরিবার ও শোভাকাঙ্খিরা।


তারা বলছেন, একটি পক্ষ নিজেদের বিশেষ সুবিধা ও লক্ষ্য হাসিল করতে কয়েকটি গণমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে মোকাররম সর্দারকে ঘায়েল করার অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। ওই মহলটি বিশেষ পেশার কিছু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে বলেও অভিযোগ মোকাররম সর্দার ও তার পরিবারের সদস্যদের।


এরই অংশ হিসেবে সুবিধাবাদী ওই মহলটি কখনো আলীগঞ্জ ঘাট, কখনো ঘাটে লোড-আনলোড হওয়া সরকারি ভর্তুকী মূল্যের সার, কখনো ঘাটের ইজারাদার মোকাররম সর্দারের রাজনৈতিক ক্ষেত্র আবার কখনো বা তার একান্তই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অবস্থানগত বিষয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে গণমাধ্যমে।


সম্প্রতি তাকে কুলি থেকে কোটিপতি বলে আখ্যায়িত করে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমন করা একটি সংবাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষনে দেখা গেছে, প্রতিবেদনের এই দাবিটিরও কোনো ভিত্তি নেই।


উপরন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯০ এর দশক থেকেই মোকাররম সর্দারের পিতা পাগলা-আলীগঞ্জ এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রামের বাড়িতেও পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকে তার পিতা এবং পূর্ব পুরুষরা ছিলেন অবস্থান সম্পন্ন তথা প্রতিষ্ঠিত।


তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর মোকাররম সর্দারের পিতা ইন্তেকাল করেন। পরে পিতার প্রতিষ্ঠিত পাথর ও সিমেন্টসহ লোড-আনলোডের ব্যবসার হাল ধরেন মোকাররম সর্দার।


স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণ জীবন-যাপন করা মোকাররম সর্দার তার অধিনস্থ শ্রমিকদের কাছে একজন সদালাপি ও পরোপকারী মাহাজন হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। এছাড়াও ব্যবসা ক্ষেত্রে নৈতিকতার দরুণ অল্প সময়েই প্রশংসা কুড়ান তিনি। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিজ স্বচ্ছতা ও আস্থার প্রতিদান দেয়ায় অল্প দিনেই তার ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পায়। এতে ব্যবসা ক্ষেত্রে সফল হয়ে উঠেন তিনি।


জানা গেছে, বর্তমানে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস.বি গ্রুপ, মোশারফ গ্রুপ, সাহারা গ্রুপ, নারিসা গ্রুপ, দেশ ট্রেডিং ও নোয়াপাড়া গ্রুপের সাথে মোকাররম সর্দারের লোড-আনলোড সহ অন্যান্য ব্যবসা চলমান রয়েছে। এছাড়াও আলীগঞ্জ ঘাটের ইজারাদার হওয়ায় এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর পন্য খালস হচ্ছে মোকাররমের এই ঘাটের অধিনে। এই ঘাটে প্রতিনিয়তই সুবিশাল জাহাজ ও নৌযানের মাধ্যমে এলসি হয়ে আসা বিপুল পরিমান কয়লা, গম, ভুট্টা, ডাউল, ছোলা ও ডাবলি বুট একদিকে খালাস হয়ে অন্যদিকে তা মালবাহী ট্রাক ও ট্যাংকলরীতে লোড-আনলোড হচ্ছে মোকাররমের অধিনে।

এছাড়াও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর কাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠায় তাদের এই পণ্য কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীক সুবিধাও পাচ্ছেন মোকাররম সর্দার। ফলে বৈধ পক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাররম সর্দার এখন প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ী।


এদিকে, ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং ব্যবসায়ী মহলের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠেছে মোকাররম সর্দারের। তবে, তার বিরোধী মহলটি মোকাররম সর্দারের এই সফলতা ও অর্জনকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে তাকে ঘায়েল করে নিজেদের সুবিধা ও উদ্দেশ্য হাসিল করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


এই প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী মোকাররম সর্দার সময় নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমি আলীগঞ্জ ঘাটের ইজারাদার। আমার কাজ হলো ইজারার শর্ত মেনে সেবা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত টোল আদায় করা। দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ বৈধ পণ্যবাহী নৌযান আমার ইজারাকৃত ঘাটে আসে এবং লোড-আনলোড হয়। এই ব্যবসায়ী গ্রুপ গুলোর সাথে আমার লোড-আনলোডের ব্যবসাও রয়েছে। আমার মরহুম পিতাও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজ গ্রামে আমরা আদি থেকেই প্রতিষ্ঠিত। আমি কুলি ছিলাম না বরং লোড-আনলোডের হাজারও শ্রমিক আমার অধিনে দিন রাত কাজ করছে। আসলে সংবাদ মাধ্যম হলো সমাজের আয়না এবং সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক। কিন্তু কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন কিছু বিভ্রান্তি ও মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে- তার কোনো যৌক্তিকতা বা সত্যতা নেই। এতে দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে কিংবা ঘায়েল করতে সুবিধাবাদী কোনো মহল আমার পেছনে লেগেছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমার আহবান থাকবে, সাংবাদিক ভাইয়েরা যেন যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >