মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ‘গুতানো গরু’ বলে অবিহিত হরে থাকেন তার দলের নেতাকর্মীরা। ঝগড়াটে বা উগ্র মেজাজের বুঝাতে এমন ‘গুতানো গরুর’ তকমা জুড়ে দেয়াটা যেন মোটেও অমূলক নয়! শান্ত পরিবেশকে মুহুর্তেই অশান্ত করে তোলায় তিনি যে বেশ পটু; সেই পটুপনার দরুণ টিপুকে ‘পাকনা টিপু’ বলেও জানেন রাজনৈতিক মহল। তার কর্কশ ও বেফাঁস মন্তব্যের দরুণ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে বারংবার। খবরের পাতায় নেতিবাচক শিরোনাম হয়ে থাকেন হরহামেশা। এবারও সেই স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে ‘কথিত মুক্তিযোদ্ধা’ বলার পাশাপাশি তাকে ওয়ান ইলেভেনের মাস্টার মাইন্ড বলে আখ্যায়িত করে তার গ্রেফতার দাবি করেছেন টিপু। এতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকাঙ্গনে সমালোচনার ডাল পালা বিস্তৃত হচ্ছে। চলছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, আসলেই কী ওয়ান ইলেভেনের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন মোহাম্মদ আলী? অবশ্য প্রবীন রাজনীতিবীদদের কাছ থেকে এর ভিন্ন উত্তর মিলেছে। তারা বলছেন, প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দরুণ মোহাম্মদ আলীর উপর দায় চাপানো বক্তব্য দিচ্ছেন সমালোচিত বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
ওয়ান ইলেভেন ঘিরে মোহাম্মদ আলীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রবীন রাজনীতিবীদদের সাথে আলাপকালে বেশ গুরুত্বপূর্ন তথ্য উঠে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত ও সর্বজন স্বীকৃত এক প্রবীন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময় নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এফবিসিসিআই এর পূর্নাঙ্গ অর্থ হলো ‘ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।’ যা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন। এটি দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সেবার স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরামর্শক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। ২০০৬ সালে দেশের রাজনৈতিক সংকট প্রকট হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার আন্দোলন রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের দরুন দেশের ব্যবসা ক্ষেত্রে ধ্বস নামে। গার্মেন্ট শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্যবসা বাণিজ্যে তুমুল সংকট দেখা দেয়। বিদেশ থেকে গার্মেন্ট সেক্টরের কাঁচামাল আমদানী বন্ধ হয়ে যায়। রফতানিমূখি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও একেবারে মুখথুবড়ে পরে। যার প্রভাব পড়ে সর্বসেক্টরে। সেসময়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর উপর চতুর্মূখী চাপ সৃষ্টি হয়। দেশের এমন অরাজকতা এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনেকটা বেসামাল হয়ে উঠে। রাজনৈতিক সংকট ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ওই মুহুর্তে জরুরী অবস্থা কামনা করেন এফবিসিসিআই সহ দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। সেই প্রেক্ষাপটের দায় এখন মোহাম্মদ আলীর উপর চাপিয়ে দেয়ার সূক্ষ্ম কৌশল চালাচ্ছেন বিএনপি নেতা টিপু; এমনটা মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রবীন রাজনীতিবীদ। তার মতে ব্যক্তিগত কোনো রেশ থেকে মোহাম্মদ আলীকে ঘায়েল করার দুরভিসন্ধি এঁটে থাকতে পারেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু। যদিও তার সেই কৌশল আঁচ করতে পেরেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
উল্লেখ্য, বিগত সময়েও বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। শিল্পপতি মডেল মাসুদকে নিয়েও তিনি বেশ কিছুদিন নারায়ণগঞ্জ গরম করে তুলেছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ ও ওসমান পরিবারের দোসর আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু সপ্তাহ না যেতেই সেই মডেল মাসুদের পাশেই দেখা গিয়েছিল টিপুকে। তখন প্রশ্ন উঠেছিল; কত টাকায় বিক্রি হয়েছিলেন টিপু? এবার মোহাম্মদ আলীকে একই কায়দায় ঘায়েল করার চেষ্টাতেই কী মেতেছেন চতুর এই বিএনপি নেতা? টিপুকে ঘিরে এমন প্রশ্ন ঘুরছে সর্বমহলে।








