নারায়ণগঞ্জ । বুধবার
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে খাল খননে রংপুরের ভেকু! নাসিকের সক্ষমতা কোথায়?

নারায়ণগঞ্জ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জে আলী খাল খননের মাধ্যমে জেলার খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই কার্যক্রম ঘিরে ইতোমধ্যেই উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন। কারণ, সামান্য একটি খাল খনন কাজ শুরু করতেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে ভরসা করতে হয়েছে অন্য একটি সিটি কর্পোরেশনের যন্ত্রের ওপর।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জে আলী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

এ সময়ে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জেলার খাল উদ্ধার, পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহরে পরিণত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রশাসক নিজেই স্বীকার করেন, খাল খননের জন্য প্রয়োজনীয় ভেকু (খননযন্ত্র) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব নেই। এ কারণে রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে ভেকু এনে কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তার নির্দেশনায় আমরা এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। একইসঙ্গে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাদের কাছ থেকে একটি ভেকু এনেছি। আমাদের নিজস্ব ভেকু নেই। যতদিন লাগে, এই ভেকু দিয়েই নারায়ণগঞ্জের খালগুলো পরিষ্কার ও খনন করা হবে।”

এই স্বীকারোক্তির পর নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে একটি সিটি কর্পোরেশন থাকা সত্ত্বেও কেন নিজেদের খাল খননের মতো মৌলিক কাজের জন্যও অন্য শহরের যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে? সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব সক্ষমতা তাহলে কোথায়?

প্রশাসক আরও বলেন, খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার করা গেলে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে এবং খালের চারপাশে গাছ লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জকে একটি “গ্রীন সিটি” হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খাল পরিষ্কার থাকলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমে আসবে। খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের দীর্ঘদিনের মশার উপদ্রবও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, কাজের সময় সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও তা মেনে নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ এই উদ্যোগের লক্ষ্য শহরকে জলাবদ্ধতা ও মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করা।
এছাড়া প্রশাসক জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ। সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় যাতে নগরবাসী ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য ড্রেন সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রমও চলছে।

তবে উন্নয়ন পরিকল্পনার এসব আশ্বাসের মাঝেই নগরবাসীর একাংশ বলছেন, একটি সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব যন্ত্রপাতি না থাকা এবং খাল খননের মতো মৌলিক কাজেও অন্য সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা নিতে হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে—নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রকৃত সক্ষমতা আসলে কোথায়?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >