নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, যা রাজনৈতিক ক্ষমতা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, বিচারহীনতা এবং সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দুর্বলতার কারনে বারবার ঘটছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, অপরাধীদের দ্রুতবিচার, এবং সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা প্রয়োজন।
ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজও প্রতারক হিসেবে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনও তার ছেলে রাব্বির বিরুদ্ধে গিরিধারা বউবাজার এলাকায় এক নারীর জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে খবর সংগ্রহ করতে গেলে শাহাদাত ও তার লোকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে আহত হয় মো. আকাশ (জাগোনিউজ) আব্দুল্লাহ আল মামুন (ক্যামেরাপারসন) আয়াজ ।
ইতিপূর্বে স্থানীয় দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারনে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সংবাদদাতা মনিরুজ্জামান মনিরকে একদল অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং গুলিকরে ২০২৪সালের ১৩ আগস্ট মারাত্মক আহত করে, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ শহরের নবাব সলিমুল্লাহ রোডের মিশন পাড়া এলাকায় দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি বিল্লাল হোসেনের দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাহাঙ্গীরমাহমুদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় এবং গুলি করে।৪ মে, ২০২৫ ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দৈনিক উজ্জীবিত বাংলাদেশের বার্তাসম্পাদক ও ফটোসাংবাদিক হৃদয়বিশ্বাস ও হাবিব হামলার শিকার হন।
বিভিন্ন পর্যালোচনায় দেখা যায় নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পেছনে বেশ কিছু গুরুতর নেয়ামক কাজ করছে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ
রাজনৈতিক অস্থিরতা: কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ আছে, তাদের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে।অনেকক্ষেত্রে হামলাকারী রারাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাববিস্তারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে প্রধান বাধা মনে করে সাংবাদিকদের।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি: সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সূত্রিতা থাকার অভিযোগ রয়েছে।সাংবাদিক নেতারা এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে আসছেন।এর ফলে অপরাধীরা পুনরায় অপরাধ করতে উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রভাব: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলার ধরনে কিছু পরিবর্তন এলেও, সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি বেড়েছিল বলে জাতীয় পত্রিকাগুলোতে সংবাদহয়েছে। অনেক সাংবাদিককে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা হয়েছে।
অপরাধীদের প্রভাব: নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধীচক্র ও প্রভাবশালীব্যক্তিরা, যাদের মধ্যে মাদকব্যবসায়ী এবং ভূমিদস্যুরা অন্তর্ভুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদপ্রকাশ হলেই তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতে দেখা যায়।
সাংবাদিকদের বিভাজন: সাংবাদিক সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ন দুর্বলদিক যার কারনে সন্ত্রাসী,চাদাবঁজ,ভুমিদস্যু ও মাদকব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা করার মত ন্যাক্কারজনক সাহস দেখাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন আমাদের সাংবাদিক সমাজকে প্রতিনিয়ত দূর্বল করে তুলছে।
পরিশেষে বলব সাংবাদিকদের গায়ে যারা হাত তুলবে সেই হাত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি সাংবাদিককে একটি ঐকবদ্ধ প্লাটফর্মে আনার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সিনিয়র ও গ্রহণযোগ্য সাংবাদিকদের। আশা করব নারায়ণগঞ্জের মাটিতে আর একটি সাংবাদিককেও হেনস্থা করার দুঃসাহস কোন পক্ষ দেখালে আমরা সাংবাদিক মহল ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করব।







