নারায়ণগঞ্জ ।
,

দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৮

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকরা পুনরায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা শুরু করতেই ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। একইসঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় থাকা বড় পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সকালে কাজের জন্য কারখানায় আসেন। তারা সকাল ৯টার দিকে কাজ ছেড়ে পুনরায় জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান।

এক পর্যায়ে কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো গার্মেন্টসের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিতে না পেরে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।

এদিকে, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের আড়ালে সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মিলন ফকির বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সামনে রেখে সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সরাসরি ইন্ধন ও উসকানি ছিল। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সরকার উৎখাতের চেষ্টা এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম।

এ ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে- ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ ও কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামিম জানান, আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অঞ্চল-৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে জানান, ঐতিহ্যগতভাবে নারায়ণগঞ্জের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সহিংসতা থেকে দূরে থাকে। কিছু দুষ্কৃতকারী সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আমরা শুরুতেই কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সহিংসতার ঘটনায় মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২১ জন এজাহারভুক্তসহ অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >