নারায়ণগঞ্জ ।
,

আনু হত্যা মামলা: রাসেলসহ ৮ জনকে অব্যাহতি চায় পিবিআই

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি  মো. আনোয়ার হোসেন আনুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল মাহমুদসহ আট আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্তের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, আনুর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দুর্ঘটনাজনিত কারণে হয়েছে বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিবিআইয়ের দাখিল করা প্রতিবেদনে মামলাটিকে তথ্যগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে হত্যার অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আট আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন হেলেনা কটেজ ভবনের নবম তলার একটি অনিরাপদ ও ফাঁকা লিফটের স্থান দিয়ে নিচে পড়ে আনুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয় এবং ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বাদী আনুর বড় ভাই হাজী আবুল কাশেম বাদশা। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ এবং মরদেহে আঘাতের চিহ্নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আনুর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারী সংস্থা উল্লেখ করেছে।

মামলায় অব্যাহতির আবেদন করা আট আসামি হলেন,রাসেল মাহমুদ, পাপিয়া আক্তার পান্না, জান্নাত আরা জাহান প্রেরণা, সারিদ হোসেন, নূর আলম ওরফে মোহাম্মদ নুরুল আলম, কাজল, রোকসানা আক্তার ওরফে পুতুল এবং গোল মোহাম্মদ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন মিয়া। তাঁর দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন আনু হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এ মামলায় রাসেল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই প্রতিবেদনের ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

তবে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা মানেই আসামিরা চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন, এমন নয়। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত রাসেল মাহমুদসহ আট আসামির অব্যাহতির বিষয়টি চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >