তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে ভাঙচুর করা কক্ষ।
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার বিকেলে নগরীর অক্টোঅফিস এলাকায় শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া এবং সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক হাসানের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জনের একটি দল শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে। এরপর তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি ল্যাপটপ, পিসি, মোবাইল, ট্যাব ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় হামলার শিকার হন শিবির, ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সগির হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের পর বিকেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে আমার রুম ভাঙচুর করে। আমার ল্যাপটপ নিয়ে গেছে, আমার পাশের রুমের এক ভাইয়ের থেকে ট্যাব নিয়ে গেছে। এনআইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট নষ্ট করে ফেলেছে।’
কলেজের গণিত বিভাগের ছাত্র শরীফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি পড়াশোনার পাশাপাশি নাসিকের চুক্তিভিত্তিক ট্র্যাফিক কর্মী হিসেবে কাজ করি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কিন্তু বিকেলে ছাত্রদল নেতা অনিক আমার রুমে ঢুকে বলে আমি এনসিপি করি, আমি ছাত্রশিবির করি। এসব বলে আমাকে বেল্ট দিয়ে মারতে শুরু করে।’
শরীফ আরও বলেন, ‘আমার একটি ট্যাব, দুটি মোবাইল, মানিব্যাগ ও বিছানার নিচে রাখা হল ফি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমার দাদা গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতি করেও ছাত্রদলের ছেলেরা আজ আমাকে শিবির আখ্যা দিয়ে মেরেছে।’
মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মারামারি করেছে ছাত্রদল আর শিবির। কিন্তু ছাত্রদল মারামারি শেষে ছাত্রাবাসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। শিবির আখ্যা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। ছাত্রশক্তির বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, ‘শিবিরের একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপে যাঁরা যুক্ত আছে তাঁরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালায়। তাঁদের ফোন চেক করে সেগুলো সাময়িক জব্দ করে পরবর্তী সময়ে হল সুপারের কাছে দিয়ে এসেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়নি।’
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমার ছাত্রদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।’
এর আগে এদিন দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।





