নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক সন্তানের জননী। এজাহারে স্বামীর বিরুদ্ধে করা মামলায় সহায়তার কথা বলে একটি বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহান (৩২) বরিশাল জেলার মুলাদী থানা এলাকার নুরুল্লার ছেলে। আগে থাকতেন সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে। বর্তমানে থাকেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার খাঁনপুর বিদ্যুৎ কলোনি এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। আগামীতে যে কমিটি গঠন হবে সেই কমিটির সভাপতি প্রার্থী তিনি।
ভুক্তভোগী নারীর পৈত্রিক বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানা এলাকায়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া থাকেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে করা মামলায় সহায়তার কথা বলে গত বছরের ১ ডিসেম্বর ভিকটিমকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান মেহেদী হাসান ফারহান। সেখানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ ও মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর থেকে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ বার বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবারে জানাজানি হলে মেহেদী হাসান বিয়ে করার আশ্বাস দেন।
পরে সমঝোতার কথা বলে চলতি বছরের গত ১৫ এপ্রিল ভিকটিমকে রাজধানীর কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগে একটি বাড়িতে মেহেদী হাসানের বন্ধু হৃদয় হাসান অভির ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে ভিকটিমকে মেহেদী হাসান তার আরেক বন্ধু আরমানের হাতে তুলে দেন। রাতভর ধর্ষণের শিকার হয়ে ভিকটিম ১৭ এপ্রিল কদমতলী থানায় ২ জনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। যার নং-৩১ তারিখ: ১৭-০৪-২০২৬। সাড়ে ৩ মাস পার হলেও পুলিশ আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাদী।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান ফারহান দাবি করেন, তার স্বামীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন ওই নারী। পরে কাবিনের টাকা আদায় করার জন্য মারধর ও নির্যাতনের মামলা করেন। আমি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি। আগামীতে যে কমিটি হবে, আমি সে কমিটির সভাপতি প্রার্থী। তাই আমার নিজ দলের কিছু লোক ওই নারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেন, মামলাটির তদন্ত চলমান, সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে। এখনো ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাইনি। আসামি ২ জন, কোনো গ্রেপ্তার নেই বলে জানান তিনি।








