নারায়ণগঞ্জ ।
,

নারায়ণগঞ্জে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর মাসব্যাপী কর্মসূচী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা কার্যালয়ে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ০২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচী ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার সহকারী সেক্রেটারী আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতী জাহাঙ্গীর আলমসহ  উপজেলা আমীরবৃন্দ।


লিখিত বক্তব্যে মমিনুল হক সরকার বলেন,  ২০০৯ সালে একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে ফ্যাসিবাদী শক্তি আওয়ামীলীগ। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরই আইন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার সব কিছু ভুলুণ্ঠিত করে এক দলীয় দুঃশাসনের পথে হাটতে শুরু করে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে গুম,খুনের রাজত্ব কায়েম করে গোটা বাংলাদেশকে আতংকের জনপদে পরিণত করে। তাদের জুলুম নির্যাতনে জামায়াতে ইসলামী ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী মতের শত শত কর্মী নিহত হয়। আহত ও পঙ্গুত্ব করেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। গুম হওয়া অনেকের খবর এখনো আমরা জানি না, যে জীবিত না মৃত।

সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে তিন তিনটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার দিবাস্বপ্নে বিভোর ছিল। মামলা-হামলায় পর্যুদস্ত ছিল, আওয়ামীলীগ ব্যতীত সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন। তাদের জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় সরকারী চাকুরীতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবীতে প্রথমে ২০১৮ সালে ছাত্রদের আন্দোলনের দাবীর প্রেক্ষিতে কোটা প্রথা বাতিল করা হয়। পরে আবার ২০২৪ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার অন্যায় পথ বেছে নেয় সরকার। কোটা প্রথা সংস্কারের দাবীতে ২০২৪ সালের ১জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

সরকার আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করে এবং নির্মম পন্থা বেছে নেয়। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবির গুলিতে আহত নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে জাতিসংঘের হিসাব মতে সারে চৌদ্দশত মানুষ শাহাদাত বরণ করে। মারাত্মক আহতের সংখ্যা ত্রিশ হাজার। সব জুলুম নির্যাতন আর শাহাদাতের রক্তকে উপক্ষো করে ছাত্র জনতা আন্দোলনকে আরো তীব্র করে তোলে।

ছাত্র জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা, তার পরিষদবর্গ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। আমরা লাভ করি দ্বিতীয় স্বাধীনতা। জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সংগঠন মাসব্যাপী যে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে, তার আলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ হতে  নিম্মোক্ত কর্মসূচী ঘোষণা করেন :


০৪ জুলাই : ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সমর্থন প্রদান ও অংশগ্রহণ।
০৫-২০ জুলাই : থানা ও ইউনিয়নের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব বার্ষিকীর আলোচনা সভা।
১৩ জুলাই : জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার
২৩-২৫ জুলাই : উপজেলা/থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী
২৯ জুলাই : জেলার উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মত বিনিময় ও আলোচনা সভা।
০১ আগস্ট : উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল
০২-০৪ আগস্ট : শ্রমিকদের উদ্যোগে কর্মসূচী পালন
০৫ আগস্ট : ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ
তিনি এই সব কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >