বন্দর প্রতিনিধি : বন্দরে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক মুরগী ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্তদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হামলাকারিদের হুমকি দামকি কারনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় মামলা দায়ের করে চরম নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে মোঃ হারুন বাদী হয়ে গত ৩এপ্রিল বন্দর থানায় মোঃ রাসেল, মোঃ হাসান, মোঃ ওসমান, সিফাতসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বন্দর থানা পুলিশ মামলাটি মামলা নং ২৭(৪)২৬ইং।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর থানার আদমপুর এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী মোঃ হারুন (৪৭)-এর কাছ থেকে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাসেল (৩৭) গত ২৭ রমজানে ২১,৫০০ টাকার মুরগি বাকিতে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকেন রাসেল।
গত ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীর ছেলে রাকিবুল হাসান আলিফ (২২) বন্দর ঘাটের সামনে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় তারা আলিফকে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা আলিফের কাছে থাকা ব্যবসায়িক নগদ ৭০,৭০০ টাকা, একটি স্মার্টফোন এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুপুরের ঘটনার পর একই দিন বিকেলে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হারুনের বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এতে হারুনের ভাবী শিমু আক্তার (৩৫)-এর হাতে ধারালো চাকু দিয়ে কোপ মারা হয় এবং বড় ভাবী নাসিমা আক্তার (৫০)-কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া ভাগিনা মাওয়াত (২৫)-এর পায়েও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
মামলার তদস্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




