নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের অনুরোধে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে ঝুঁকি দেখা দেয়ার পর বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জবাবে ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের অবহিত করলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে।

এদিকে, ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি ট্যাংকার সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণের জন্য বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন সরবরাহ করছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে আসা মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

এদিকে চীন ও ভারতও বাংলাদেশকে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সংকটের আশঙ্কা নেই। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশকে সরাসরি জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ওমান ও কুয়েতসহ আটটি দেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করছে।

সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে মজুতদারি ও অনিয়ম ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >