নারায়ণগঞ্জ । বুধবার
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোবা থেকে বিবস্ত্র উদ্ধার
ফতুল্লায় রায়হান খন্দকার হত্যায় ১৪ দিনেও নিষ্ক্রিয় পুলিশ !

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন দৌলতপুর মসজিদ সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধারকৃত অটোরিকশা চালক রায়হান খন্দকারের হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ফতুল্লা থানা পুলিশ। এতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরিবারের অভিযোগ, রায়হান খন্দকারকে প্রথমে নির্যাতন করা হয়, পরে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার অটোরিকশাটি চুরি করা হয়েছে—যা হত্যাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। অথচ এমন গুরুতর আলামত থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেপ্তারের আওতায় না আনা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ডোবা থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধারকৃত রায়হান খন্দকারের লাশ—শুধু একটি মরদেহ নয়, এটি ফতুল্লা থানার তদন্ত ব্যবস্থার ওপর এক ভয়াবহ প্রশ্নচিহ্ন।

গত ৭ জানুয়ারি ফতুল্লা থানা পুলিশ দৌলতপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে রায়হান খন্দকারের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল ছেঁড়া ও লালচে আঘাতের চিহ্ন এবং মাথার পেছনের বাম পাশে গভীর জখম। পরিবারের দাবি, রায়হানকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার অটোরিকশাটি চুরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সিনথিয়া বেগম ফতুল্লা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে।

নিহতের মা আকলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সময় নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “আমার ছেলেকে খুন করা হইছে। সিনথিয়ার বড় ভাইয়ের প্রথম বউ জেসমিনই আমার ছেলেকে মারছে। জেসমিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ঝগড়ার জের ধরেই সে আমার ছেলেকে বারবার হুমকি দিত—মাইরা ফেলবে। শেষ পর্যন্ত সেই হুমকিই সত্যি হইছে।”

নিহতের স্ত্রী সিনথিয়া বেগম আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন,“আমার বড় ভাই রনি সরদারের সাবেক স্ত্রী জেসমিন ১৭ বছর সংসার করার পর তিন সন্তান রেখে ২০২৫ সালে সবুজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। গত ২৯ নভেম্বর আমার ভাইয়ের দ্বিতীয় বিয়ের সময় জেসমিন বাধা দেয়। তখন আমার স্বামী রায়হান প্রতিবাদ করলে জেসমিন তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়—পুলিশের সামনেই।”

সিনথিয়া আরও জানান, ঘটনার পরবর্তী ১০–১২ দিনের মধ্যে জেসমিন একাধিকবার মোবাইল ফোনে ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে রায়হান খন্দকারকে গুম ও খুনের হুমকি দেয়। জেসমিন ছাড়া আমাদের আর কোনো শত্রু নেই। জেসমিনই আমার স্বামীকে খুন করিয়েছে”—দৃঢ় কণ্ঠে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার সাব-ইন্সপেক্টর নন্দন সময় নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “আমরা আসামি গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছি। এখনো কাউকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই প্রকৃত হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হত্যার আগে একাধিকবার হুমকির তথ্য থাকা সত্ত্বেও এখনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার না করায় হত্যার আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাদের দাবি, জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলেই রায়হান হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে।নিহত রায়হান খন্দকারের পরিবারের একটাই দাবি—দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “রায়হানের রক্ত যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়—এটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >