গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে মাদ্রাসার প্রধান গেটের সামনে ও গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টায় মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও অবরোধ চলছিল।
এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
নিহত ইয়াসিন আলী পাবনা জেলার সুজানগর থানার নেয়াপাড়া এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে টঙ্গীর গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ইয়াসিন গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানের চালক পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি জব্দ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ইয়াসিনের মৃত্যুর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড ও তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সামনের অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক হলেও এখানে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, গাজীপুরা এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার বা কার্যকর গতিরোধক নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ অথবা ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থী সড়ক পার হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এভাবে আর কোনো শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মানুষ যেন দুর্ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ বা ধীরগতির হয়ে পড়ায় ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।







