হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার (১৩ জুলাই) পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল আজম বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মেসার্স শামীম বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইকবাল হোসেন এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুদিয়াখলা গ্রামের মামুনুর রশিদকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন খোয়াই নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত, পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল আজম এবং সহকারী রেভিনিউ অফিসার শাহাদাত হোসেন।
তদন্তে দেখা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত চুক্তির নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে আরএস ৫৭৫ ও ৪০১ নম্বর দাগ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুমের মালিকানাধীন জমি থেকেও অনুমতি ছাড়াই মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চুক্তি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও অভিযুক্তরা রাতেও ড্রেজার পরিচালনা করতেন। এ ছাড়া নদীর তীর ও ফসলি জমি সংরক্ষণের শর্ত অমান্য করে প্রতিরক্ষা বাঁধ ছিদ্র করে ড্রেজারের পাইপ বসানো হয়। এতে বাঁধের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়।
পাউবোর দাবি, ড্রেজিংয়ের সময় নদীর স্লোপ সংরক্ষণ না করায় গত ৯ জুলাই কালীগঞ্জ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার মিরপুর ও লামাতাসী ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও সবজিখেতসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।
অভিযান চলাকালে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ড্রেজার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহবুব মিয়া, ফজর আলী, আব্দুর রহমান ও ইদ্রিস আলীসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে বাঁধটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা জানান, শুধু মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে না। তাদের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী ও বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলন করেছে। এরই পরিণতিতে ভয়াবহ এই ভাঙন ও প্লাবনের ঘটনা ঘটেছে।
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার, দুর্গত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং








