ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় সেই মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন শিশুর বাবা সাইদুল ইসলাম। মামলা দায়েরের পরপরই লাকী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে নলছিটি থানায় মামলাটি দায়ের করেন সাইদুল। মামলার একমাত্র আসামি তার সাবেক স্ত্রী লাকী আক্তার।
এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম বলেন, লাকীর সঙ্গে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। সে আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে।
আমার মেয়ে ফাহিমা (৫ বছর) সাঁতার জানে না, কিন্তু লাকী সাঁতার জানে। যদি ঘটনাস্থল থেকে লোকজন দুজনকে উদ্ধার না করতেন তাহলে আমার মেয়ে পানিতে ডুবে মারা যেত, আর তা মা বেঁচে যেত।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি শহরের থানারপুল ফেরিঘাট এলাকায় ঘাটে বাঁধা ফেরির ওপর থেকে কন্যাসন্তান নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন লাকী। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের জীবিত উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, ৬ থেকে ৭ বছর আগে উপজেলার হাঁড়িখালী গ্রামের মো. আজিজ মোল্লার মেয়ে লাকী আক্তারের সঙ্গে নলছিটি শহরের থানারপুল এলাকার আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের বছর দেড়েক পর তাদের একটি কন্যাসন্তান হয়।
এর আগে লাকী আক্তার জানান, তার স্বামী নেশাগ্রস্ত এবং শাশুড়ি তাকে মারধর করতেন। পারিবারিক কলহের কারণে তিনি তার স্বামীকে তিন সপ্তাহ আগে তালাক দেন। এরপর সাইদুল ইসলাম তার মেয়েকে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু লাকী আক্তার মেয়েকে তার বাবার কাছে দিতে চান না।
এ নিয়ে সাইদুল মামলা করার হুমকি দেন। এতে লাকী আক্তারের বাবা আজিজ মোল্লা নাতি ফাহিমাকে তার বাবার কাছে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। এ ঘটনায় পরিবারের প্রতি অভিমান করে লাকী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন।
নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, পাঁচ বছরের কন্যাসন্তান নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত লাকী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।







