নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
ইউএনও সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রা-এর সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাহিন মিয়া প্রথমে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য ঢাকা-কক্সবাজার রুটের তিনটি বিমানের টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি করেন। এতে তিনি রাজি না হলে পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, দাবিকৃত অর্থ না দিলে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইউএনও আরও দাবি করেন, টাকা না দেওয়ার পর শাহিন মিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেনের যোগসাজশে তাকে জড়িয়ে জমি নিবন্ধনের এক শতাংশ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের প্রাক্কলনের ভিত্তিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অনুমোদিত প্রকল্পে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ, আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম নিরীক্ষা করে। ফলে ইউএনও, উপজেলা প্রকৌশলী বা উপজেলা পরিষদের এককভাবে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, এসব প্রকল্পের তথ্য নিয়মিতভাবে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়।





