সারা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নির্যাতিত যেই জেলা সেটা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থাকলেও নামমাত্র ১৭ জন তাও আবার সাতটি থানায় মিলে গ্রেফতার হওয়াটা কি শুভঙ্কর? ১৭ জনকে গ্রেফতার করে কি সাধারণ মানুষকে কি বুঝাতে চায় প্রশাসন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের নাকের ডগায় নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চিটাগাং রোড সাইনবোর্ড সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ রিংরোড এরই মধ্যে ঝুটিকে মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, অথচ জেলা ও মহানগরে বিএনপি নেতাকর্মীরা বড় বড় বক্তৃতা দিলেও কাজের বেলায় থামাতে পারেনি তাদের কর্মকাণ্ড
নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠনের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দুই দিন আগে থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও প্রতিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি প্রতিহত করা হবে।
তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির মধ্যেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল এবং কেক কাটার কর্মসূচি পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করেন। কোথাও কেক কাটা, কোথাও সংক্ষিপ্ত মিছিল, আবার কোথাও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের খবর পাওয়া যায়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিজিবি র্যাপ ও পুলিশ প্রশাসন সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা থাকলেও কোন ভাবেই তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি নাম মাত্র ১৭ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে, তবুও অনেক প্রভাবশালী ও সক্রিয় নেতা এখনো প্রকাশ্যে না এলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেওয়ার পরও যদি কোনো রাজনৈতিক দল তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সক্ষমতা কি এখনো তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, নাকি সাধারণ মানুষের চোখ আইওস কারার জন্যই কি প্রতিহত প্রতিরোধের কৌশলে কোথাও ঘাটতি ছিল?
এদিকে বিভিন্ন মহলে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নিলেও গোপনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখছেন কেননা তারা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ছিল এখনো তারা আওয়ামী লীগ করে শুধু পিঠ বাঁচানোর জন্য অন্য দলে যাওয়ার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিগুলোতে এমন কিছু মুখও দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রশ্ন—যেখানে দিন-রাত প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চলেছে, সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কীভাবে তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসূচি সম্পন্ন করলেন? এটি কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক কৌশলের দুর্বলতা, নাকি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।






