নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিনিসিয়াসের জাদুকরী গোলে বাঁচল ব্রাজিল

দারুণ উপভোগ্য প্রথমার্ধ। গতি, আক্রমণ, হাই প্রেসিং, ট্রিগার প্রেসিং, বল দখলের লড়াই এবং দুর্দান্ত দুটি গোল! জয়ের ক্ষুধা, লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার জেদ, প্রতিপক্ষকে স্পেস না দেওয়ার কৌশল, বল হারালে সঙ্গে সঙ্গে সেটা ফের দখলে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা-সবকিছু মিলে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল চলতি বিশ্বকাপের চমকপ্রদ স্লাইড শো যেন! আর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি অনেকটাই কমিয়ে দিলে দুদলই। গোল করার চেয়ে গোল না খাওয়ার চেষ্টাই এই অর্ধে বেশি দেখা গেল। খেলা শেষে স্কোর লাইন, মরক্কো ১, ব্রাজিল ১।

প্রথমার্ধ দারুণ উত্তেজনায় সত্যিকার অর্থের আকর্ষনীয় ফুটবলে ঠাসা। আর পরের অর্ধ নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে ঝুঁকিহীন পথে হাঁটা- এই সারমর্ম নিয়েই ১-১ গোলে শেষ হলো ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ।

কেউ জেতেনি এই ম্যাচে। তবে যদি নম্বরে হিসেবে এই ম্যাচে কোন দল এগিয়ে? তাহলে এই প্রশ্নের উত্তরের বেশিরভাগেরই বলবেন- মরক্কো। পুরো ম্যাচ জুড়ে মরক্কো যে ফুটবল খেলেছে তাতে এটা স্পষ্ঠ যে চারবছর আগে কাতার বিশ্বকাপে তাদের সেমিফাইনালে খেলাটা কোনো ফ্লুক ছিল না। এই বিশ্বকাপেও আফ্রিকার এই দেশটি প্রথম ম্যাচে যে পারফরমেন্স দেখিয়েছে তাতে তাদের এবারো শেষচারের অন্যতম দাবিদার মনে হতেই পারে।

কিকঅফের সঙ্গে সঙ্গে উভয় দল গোলের জন্য ঝাঁপায়। বল দখলে রাখার তাগিদে পুরো মাঠ জুড়ে দৌড়ায়। শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটে মরক্কো যে ঝাঁঝালো ফুটবল খেলল, সম্ভবত ব্রাজিল সেই ধাচের জন্য প্রস্তত ছিল না। অবশ্য গোলের প্রথম সুযোগটা প্রথম তৈরি করে ব্রাজিলই। কিন্তু ১৪ মিনিটের সময় বাম দিক থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছোয়াতে ব্যর্থ হন থিয়াগো। হেড করতে পারলেই নিশ্চিত গোল! কিন্তু থিয়াগো যে বল স্পর্শই করতে পারলেন না। গতি, পাসিং, প্ল্যানিং, একুইরেসি সবকিছুতেই শুরুর এই সময় দাপট দেখায় মরক্কো। ব্রাজিল মিডফিল্ডারদের ভুলে গোলও পেয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে দারুণ একটা বল থ্রু করেন দিয়াজ সামনে থাকা ইসমাইল সাইবারির দিকে। পাশে থাকা ব্রাজিলের দুই খেলোয়াড়ের বডি পজিশন ছিল উল্টোদিকে। বল নিয়ে দুজনের মাঝখান থেকে দৌড়ে এই দুজনকে পেছনে ফেলেন সাইবারি। বিপদ দেখে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন। ঠিক তখনই দারুণ বুদ্ধিমত্তা দেখিয়ে সাইবারি আলতে ভঙ্গিতে অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল ভাসিয়ে সামনে থাকা ফাঁকা জালে জড়িয়ে দেন, গো..ও..ল!

গোলের পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে মরক্কো। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মধ্যেই তারা ১২টি শট নেয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের পর কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে ব্রাজিল এত বেশি শটের মুখোমুখি হয়নি।

তবে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল অবশ্য ভেঙ্গে পড়েনি। বরং ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে আরো হাইপ্রেসিং ফুটবলে মনোযোগ দেয়। এমনভাবে লড়াইয়ের ফলও হাতে নাতে পেয়ে যায় ব্রাজিল। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে করা গোলে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সের ভেতরে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে চমৎকারভাবে ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর শক্তিশালী শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ব্রাজিলের হয়ে এটি তার ১০ নম্বর গোল। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ভিনির গোলের ম্যাচে ব্রাজিল কখনো হারেনি। এই ম্যাচেও ঠিক তাই হয়েছে। জিততে পারেনি ব্রাজিল। তবে হারেনি। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ এবং সমর্থকরা সম্ভবত এই স্বস্তি নিয়ে ফিরলেন!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই ছিল দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে মরক্কোর প্রথম গোল। এর আগে ১৯৭০ সালে পেরু এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলেও গোলের দেখা পায়নি তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >