নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটা গোষ্ঠী যোগাযোগ ৫ আগস্টে বিতাড়িতদের সঙ্গে

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে বিতাড়িতদের সঙ্গে একটা গোষ্ঠীর মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গোপনে সেই গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচার বিদায় নিয়ে যেভাবে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের সঙ্গে একটি গোষ্ঠীর মিল দেখা যায়। গোপনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একথা বলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, তখন বিএনপির আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আজ যারা আন্দোলন ও অবরোধ করছে, তখন তাদের মাঠে দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “যারা দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে তারা কৃষকের কথা বলে না, খাল খননের কথা বলে না, গ্রামের শিশুর শিক্ষা কিংবা কৃষক কার্ডের কথা বলে না। তারা শুধু অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধরার খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট ও অকার্যকর হয়ে থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। উপস্থিত প্রবীণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের বয়স ষাটের বেশি, তাদের অনেকেরই সেই স্মৃতি এখনও মনে থাকার কথা। তিনি বলেন, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার শুধু কৃষি নয়, শিক্ষাখাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা যেন সুন্দর পোশাক পরে স্কুলে যেতে পারে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

দেশের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ-তরুণী থাকলেও অনেকের কর্মসংস্থান নেই। এজন্য সরকার কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নতুন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। যারা মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশের মানুষ উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

খাল পুনঃখনন উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল আসনের এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >