নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জের কামাররা

আর মাত্র কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির প্রস্তুতিতে ইতোমধ্যেই ব্যস্ত সময় পার করছেন নারায়ণগঞ্জের কামাররা। হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লি। হাপরের আগুন জ্বলছে সারাক্ষণ, আর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে তৈরি হচ্ছে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম—দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ নানা ধরনের উপকরণ।

সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নতুন দা-ছুরি তৈরি এবং পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে কামারদের দোকানে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কেউ নতুন ছুরি বানাচ্ছেন, আবার কেউ পুরোনো বঁটি ও দা ধার করাচ্ছেন।

ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকার এক কামার জানান,
“কোরবানির ঈদকে ঘিরে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের এক কর্মকার বলেন,
“ঈদ এলেই দা-ছুরি তৈরির অর্ডার বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিদিনই নতুন নতুন অর্ডার পাচ্ছি।”

সদর থানার কামারপট্টির এক কারিগর জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরিতে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। অনেকেই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রাখছেন।

বন্দর থানাধীন বাজার এলাকার কামার বাসু দাস বলেন,
“পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নিচ্ছি। আর নতুন ছুরি মান ও আকারভেদে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি করছি।”

ছুরি শান দিতে আসা স্থানীয়দের অনেকেই জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে ছুরি ধার করাতে এসেছেন তারা। কারণ ধারালো সরঞ্জাম ছাড়া কোরবানির কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা কঠিন।

কামাররা জানান, কাঁচা লোহার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি সরঞ্জামের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। লোহা ও অন্যান্য কাঁচামালের মূল্য বাড়ায় ভালো মানের দা-ছুরি তৈরি করতে এখন বেশি খরচ পড়ছে।

বর্তমানে লোহার মান ও আকারভেদে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, দা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা, বঁটি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাপাতি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কোরবানির ঈদকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই কামার শিল্প। আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগেও ঐতিহ্যবাহী কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের চাহিদা এখনও সমানভাবে টিকে আছে। অনেকের মতে, হাতে তৈরি এসব সরঞ্জাম টেকসই ও কার্যকর হওয়ায় কোরবানির সময় সাধারণ মানুষ এখনো কামারদের ওপর নির্ভরশীল।

ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি কাজের চাপ থাকলেও, ব্যস্ততার মধ্যেই সন্তুষ্ট কামাররা। কারণ বছরের এই সময়টিতেই তাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়, যা দিয়ে অনেকেই পরিবারের বাড়তি খরচ মেটান এবং সারা বছরের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >