নারায়ণগঞ্জ । বৃহস্পতিবার
১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে বড় সম্প্রসারণ, বাড়ছে ভাতা ও উপকারভোগী

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড এই দুই কর্মসূচিতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৩ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুই খাতে মোট ১৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্তরা অন্য কোনো সরকারি ভাতা একসঙ্গে পাবেন না।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফ্যামিলি কার্ডে যুক্ত হবে ৪১ লাখ পরিবার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প আগামী বাজেটে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিবারপ্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী অর্থবছরেও এই হার অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বাজেটে এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ লাখ করা হবে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যারা আগে থেকেই অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাচ্ছেন, তারা ফ্যামিলি কার্ড নিলে পূর্বের সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা এক কোটি ৬১ লাখে উন্নীত করা হবে। এ খাতে পাঁচ বছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। কৃষক কার্ডের আওতায় আসছে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষ কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা সহজলভ্য করতে কৃষক কার্ড কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২ লাখ ৫০ হাজার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বাজেটে এক হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

বাড়ছে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাখেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকাবীর উত্তমদের ভাতা ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকাবীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকদের ভাতা ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছেতবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত ও সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণে বাড়ছে বরাদ্দ মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত ও খাদেমদের সরকারি সহায়তার আওতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ হাজার, সেখানে আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৬ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা থেকে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খাল খনন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৬৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৪ লাখ করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও জনবল ও বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তা বাড়ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য পরিচালিত মাসিক ভাতা কর্মসূচিতেও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৬ জন। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ খাতে আগামী বাজেটে ২৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা বেশি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >