বিশেষ প্রতিনিধি : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম এক নাম সোয়াদ হোসেন বান্টি। নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর রেল গেট ও আশপাশের এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক তিনি। এই অঞ্চলের মাদকের সিন্ডিকেটও বান্টির একক নিয়ন্ত্রণে। চিহ্নিত মাদক কারবারিরা নিয়মিত বান্টির অফিসে যাতায়াত করে- এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক কারবার নিয়ে ওই অঞ্চলের ছোট-বড় সব রকমের দ্বন্দ্ব-বিবাদের শালিসও করা হয় বান্টির অফিসে। ২নং রেল গেইট সংলগ্ন তার নিজ বাড়ীর নিচ তলায় অফিস বানিয়ে সেখানেই চলে তার এই বিচার শালিসী ও অপরাধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণের সকল হিসেব নিকেশ। সেখানে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব টর্চার সেলও। মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিন পাওয়া এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে অতীতে এই তথ্য তুলে ধরেছিলেন।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় তিনটি সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি সিন্ডিকেটই রয়েছে বান্টির নিয়ন্ত্রণে। এই সিন্ডিকেট গুলোর মধ্যে অন্যতম বিউটি গ্রুপ। তবে বিউটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাল ধরেছে তার তিনবোন তাসলিমা, পাখি, টুকু সহ তাদের ছেলে-মেয়ে ও জামাতারা। এর মধ্যে পাখির দুই মেয়ে মরনী ও সাবিনা, টুকুর মেয়ে রুপালী ও তাসলিমার ছেলে বিল্লাল প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত সব ধরনের মাদক বিক্রি করে থাকে। যা নিয়ন্ত্রণ করে বান্টি। এছাড়াও বান্টির পিএস পরিচয়ধারী একটি গ্রুপও এই অঞ্চলে মাদক কারবারিতে সক্রিয় রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বান্টির বাড়ির নিচ তলায় তার টর্চার সেলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করে চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়াও বিচারের নামে করা হয় নির্যাতন। এসকল ঘটনায় ইতিপূর্বে তার নামে থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। আবার অনেকে ভয়ে মুখ খোলেনি।
জানা যায়, অতীতে পুলিশের সাথে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে সর্বত্র আলোচনায় আসা দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী মাফিয়া জগতেও হৈ চৈ ফেলে দেয়! এরপর যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, সে দলেরই প্রভাবশালী নেতাদের প্রকাশ্য শেল্টারে নিজ অপরাধ জগতের ডালপাল ক্রমেই বিস্তৃত করে গেছেন বান্টি।
অতীতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জের তৎকালিন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ‘হাজী সাহেব’ খ্যাত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরী করলেও বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের আলোচিত জাকির খানের ছায়া হয়ে উঠেছেন। ফলে অতীতের চাইতেও বর্তমানে তার প্রভাব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতিও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিগুবাবুর বাজারের ইজাদারের পক্ষ হয়ে বৃহৎ একাংশের দোকানীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা বান্টি বাজারের সীমানার বাহিরেও রাস্তার ফুটপাত দখল করে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করছে। কোনো কোনো স্থান ২ থেকে ৩ শিফটে ভাড়া দিয়ে দৈনিক হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্টির বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চাঁদবাজী, ব্ল্যাক মেইলিং ও ভূমিদস্যুতা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছর আগে দিনে দুপুরে সৈয়দপুর ব্রিজ এলাকায় পুলিশের সাথে প্রকাশ্যে বন্দুক যুদ্ধে জড়ায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টি। এতে পুলিশের এসআই সহ চার সদস্য আহত হয়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বান্টিকে তিনটি বিদেশী পিস্তল ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাসহ অন্যান্য থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে থানায় আরো একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হলেও রাজনৈতিক ছায়ায় থেকে শহরের বুকে দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে।
এই বিষয়ে বান্টির বক্তব্যের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তার হোয়াটসএ্যাপ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর পর তিনি তা দেখলেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।




