বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের পরিপূর্ণতা বলে মনে করেন লিওনেল মেসি। ফুটবলের ইতিহাসে বহু আগেই তিনি অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ছিল বিশ্বকাপ না পাওয়া। ২০২২ সালে কাতারের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে মেসি যেন নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ করতে পেরেছিলেন।
বুধবার (৬ নভেম্বর) মায়ামিতে আমেরিকা বিজনেস ফোরামের মঞ্চে শহরের ‘চাবি’ তুলে দেন মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেস। সেখানে মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতিটি ঠিক সেই রকম ছিল, যেমনটা তিনি সন্তানদের জন্মের মুহূর্তে অনুভব করেছিলেন—অবর্ণনীয়, গভীর এবং বিশেষ।’
২০০৬ সালে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হলেও ২০১৪ সালে ফাইনাল ছুঁয়েও ট্রফি হাতে ওঠেনি। ২০১৮ সালের হতাশার পর আবার ২০২২ বিশ্বকাপে পঞ্চম প্রচেষ্টায় টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ওঠেন শীর্ষে।
মেসির ভাষায়, একজন ফুটবলারের জীবনে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর নেই। পরিবার, সতীর্থ ও পুরো দেশের আনন্দই এর প্রমাণ।
ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব শিরোপা জয়ের পরও বিশ্বকাপটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা। সেটি পেয়ে তিনি মনে করেন, ফুটবলের সঙ্গে তার দীর্ঘ পথচলা এখন সম্পূর্ণ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্লাব পর্যায়ে সব অর্জন করার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু বিশ্বকাপ এনে দিয়েই ক্যারিয়ার সত্যিকার অর্থে পূর্ণতা।’
সম্প্রতি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মন্তব্য করেছিলেন—সেরা হতে তার বিশ্বকাপ জয়ের প্রয়োজন নেই। সেই প্রসঙ্গ টেনে মেসি জানান, তার কাছে বিশ্বকাপ জয়ই একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রতীক। এটি এমন এক অনুভূতি, যা ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। মানুষ যেমন জীবনের কোনো শীর্ষ অর্জনে পৌঁছায়, ফুটবলে সেই শীর্ষ বিন্দু হলো বিশ্বকাপ।
মেসি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয় তার কাছে অনেকটা সন্তান জন্মের অনুভূতির মতো, জীবনের সবচেয়ে গভীর, আবেগময় মুহূর্তগুলোর একটি।’
সবশেষে তিনি জানান, এত বড় অর্জনের পরও তার মনে আছে গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনয়, যা ফুটবলকে ভালোবাসার শক্তিকে আরো বড় করে তুলে ধরে।








