নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে অবস্থিত শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই লক্ষ্যে গত শুক্রবার জাইকার প্রতিনিধিদের সাথে গুরুত্বপূর্ন মিটিং সেরেছেন তিনি। পাশাপাশি নকশা তৈরী ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা চুড়ান্ত হয়েছে বুয়েটের প্রকৌশলী দলের সাথেও।
ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা তথা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে জরিপের কাজ সম্পন্ন করেছে বুয়েটের প্রকৌশলীরা। দুই সপ্তাহের মধ্যে জিয়া হল পুণঃনির্মাণের নকশা প্রস্তুত করে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার কথাও রয়েছে তাদের।
এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
তিনি বলেন, জাইকার প্রতিনিধি দলের সাথে আমার মিটিং হয়েছে। তারা জিয়া হল পূনরায় নির্মাণের জন্য অর্থ দিতে রাজি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথেও আমার মিটিং হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে এসে পরিদর্শন করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন ভবনের পূর্নাঙ্গ নকশা তৈরী করে জমা দেয়ার কথা রয়েছে তাদের।
এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেনস খান বলেন, ‘এটি একটি কমপ্লেক্স ভবন হবে। কিন্তু বাণিজ্যিক ভবন বা মার্কেট থাকবে না। পুরো ভবনের প্রতিটি কক্ষই হবে সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম। এখানে ছোট বড় নানা অডিটরিয়াম থাকবে। এটি পূর্নাঙ্গ সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।’
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে চাষাঢ়া মোড়ে অবস্থিত শহীদ জিয়া হল একসময় জেলার প্রধান সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র ছিল। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অবহেলা ও প্রতিহিংসার কারণে এটি আজ পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ এক কঙ্কালসার স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাতের আঁধারে শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে ফেলে দূর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে নামফলক ও ছবি পুনঃস্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে সন্তোষ কুমার রায় চৌধুরীগং তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এসএ সাত্তারের নামে নারায়ণগঞ্জ টাউন হলের জন্য ৫৯ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। শুরুতে টাউন হল নামে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এই মিলনায়তনটির নামকরণ করা হয় ‘শহীদ জিয়া হল’। শুরু থেকেই এই হলটি স্থানীয় মহকুমা ও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।
জানা গেছে, একদা সাংস্কৃতিক নাটক, গান, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন আয়োজনে মুখরিত থাকত এই প্রাঙ্গণ। নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে এটি ছিল আড্ডার ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান স্থান।
সেই স্থানটি পূনরায় জাগ্রত করে তোলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ও জাইকার অর্থায়নে পুন:নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়াররা। এতে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও সাংস্কৃতিমনা মানুষেরদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।





