নারায়ণগঞ্জ ।
,

যেখানে সমস্যা, সেখানেই শিখন সরকার শিপন

শারদীয় দুর্গোৎসবে মণ্ডপে মণ্ডপে ছুটছেন পূজা উদযাপন পরিষদের এই সংগঠক, সনাতনীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছুটে চলেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আয়োজকদের খোঁজখবর নেওয়া, সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তাঁর এই নিরলস তৎপরতা নজর কেড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

শুধু দুর্গাপূজা নয়, সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক আয়োজন কিংবা সংকটময় মুহূর্তেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। সংগঠনিক দক্ষতা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে নারায়ণগঞ্জের সনাতন সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে তিনি পরিচিত ‘শিপনদা’ নামে। সমালোচনা ও মতভিন্নতা থাকলেও সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছে তাঁর এই সক্রিয়তা ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিনে সকাল থেকে ফতুল্লা থানার কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন শিখন সরকার শিপন। এ সময় তিনি মণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, পূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আয়োজকদের বিভিন্ন প্রয়োজনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, ফতুল্লা থানা শাখার সভাপতি শ্রী প্রদীপ মণ্ডল, প্রীতম সরকারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান এবং পূজার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। উৎসবের দিনগুলোতে সংগঠনের নেতাদের এমন সরাসরি উপস্থিতি ও যোগাযোগ পূজার আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

মণ্ডপে মণ্ডপে ছুটে চলাই যেন তাঁর দায়িত্ব

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের পরিস্থিতির খোঁজ রাখা, আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিখন সরকার শিপন। উৎসবের সময় তাঁর এই ছুটে চলা কেবল আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মণ্ডপগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি জানা এবং সম্ভাব্য সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার প্রচেষ্টাও এর অংশ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকের ভাষ্য, যেকোনো প্রয়োজনে সংগঠনের মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া কিংবা নিজেদের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে শিখন সরকার শিপনের ভূমিকা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি ভবিষ্যতেও একইভাবে সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকবেন এবং ন্যায্য দাবি আদায়ে সহযোগিতা করবেন।

তবে একজন সংগঠকের গ্রহণযোগ্যতা শুধু ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে নয়, সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রম, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই বিবেচনায় পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ দুর্গোৎসবের ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তির উদ্যোগ, সংগঠনের শক্তি

শিখন সরকার শিপনের মতে, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীর দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। জেলা থেকে উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শিখন সরকার শিপন বলেন, “নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মধ্যেই সুখ আছে। পূজা পরিষদের প্রতিটি নেতাকর্মী উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাকে গর্বিত করে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎসবের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।

আস্থার জায়গা তৈরি হয় কাজের মধ্য দিয়ে

নারায়ণগঞ্জের সনাতন সম্প্রদায়ের কাছে শিখন সরকার শিপনের পরিচিতি গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা ও বিভিন্ন আয়োজনে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি। পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা, সমস্যার কথা শোনা এবং সহযোগিতার পথ খোঁজার এই প্রচেষ্টা তাঁকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত করেছে।

দুর্গোৎসবের মতো বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই নয়, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ কমিটি ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যস্ত সময়ে শিখন সরকার শিপনের মণ্ডপে মণ্ডপে ছুটে চলা তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনেরই প্রতিফলন। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার এই প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের ওপর। তবে মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে তিনি যে নিজের কর্মপরিধি বিস্তৃত করছেন, তা এবারের দুর্গোৎসবে নারায়ণগঞ্জের পূজাঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >