নারায়ণগঞ্জ । রবিবার
১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে ডিবির হেফাজতে আসামির মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে অসুস্থ্য হয়ে শাহাদত হোসেন (৪৫) নামে এক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

 পুলিশের দাবী, আসামির শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সেগুলো পাবলিক এ্যাসল্ট।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামি মারা যান। আসামি শাহাদত সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রামের মৃত. খলিল হোসেনের ছেলে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বক্কার সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ শহরের রেলস্টেশন এলাকার মিশুকচালক আমিনুল ইসলামের গাড়ী ভাড়া নিয়ে যায়। এরপর তাকে হত্যা করে লাশটা উল্লাপাড়ার চৌকিদহ সেতুর নীচে ফেলে মিশুকটা নিয়ে চলে যায় দূর্বৃত্তরা। গত ১২ নভেম্বর সকালে আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো বলেন, পরে মামলটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে তদন্তে শাহাদত নামে ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।শুক্রবার সকাল ১১টায় তাকে শহরের বাজার স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যে লুট হওয়া মিশুকের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। এরপর শাহাদত শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যান।

নিহতের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশ শাহাদাতকে আটক করে। শুক্রবার বিকালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

তিনি আরো বলেন, আমার ভাই মারপিটের ভয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি জানায়, ভর্তি করার ২০ মিনিট পরই তিনি মারা যান। তার শরীরে আঘাতের দাগ ও হাতের আঙুলে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়াও রোগীর হিস্ট্রিতে পাবলিক এ্যাসল্ট রয়েছে। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণটা পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যে লুট হওয়া মিশুকের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। আগে থেকেই তার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >